নয়াদিল্লি: বিশ্বজয়ের আনন্দে বিভোর গোটা দেশ। ইতিমধ্যে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী সর্বত্র চর্চা চলছে ভারতীয় কন্যাদের পারফরমেন্স নিয়ে। ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে জেমিমা রডরিগেজদের ফলোয়ারের সংখ্যাও হুহু করে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুধু সমাজমাধ্যমে ফলোয়ার নয়, জেমিমাদের বিজ্ঞাপনের পারিশ্রমিকও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুয়ায়ী জানা গিয়েছে, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ‘ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট ফি’ ২৫ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশ্বকাপ জেতার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ওম্যাক্স লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি হরমনপ্রীত কাউরকে তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে ঘোষণা করেছে।
পিছিয়ে নেই দলের তারকা ব্যাটার জেমিমাও। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১২৭ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলার পর তাঁর কাছেও প্রচুর বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব এসেছে। ইতিমধ্যে ১০-১২টি ব্র্যান্ডের সঙ্গে জেমিমার আলোচনা চলছে। জানা গিয়েছে, বিজ্ঞাপনের জন্য আগে যে পারিশ্রমিক পেতেন মুম্বই-কন্যা, তার দ্বিগুণ পারিশ্রমিক পাবেন তিনি। দলের ব্যাটিংস্তম্ভ স্মৃতি মান্ধানা এই মুহূর্তে দেশের সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত মহিলা ক্রিকেটার। তিনি ইতিমধ্যে ১৬টি ব্র্যান্ডের হয়ে বিজ্ঞাপনী প্রচার করেন। এছাড়া রিচা ঘোষ, শেফালি ভার্মার মতো দলের বাকি ক্রিকেটারদেরও বিজ্ঞাপনী পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পাবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।
এদিকে, বিশ্বকাপ জয়ের জন্য ভারতীয় দলকে ৫১ কোটি টাকার আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে বিসিসিআই। তবে দুই দশক আগেও মহিলাদের ক্রিকেটে এত অর্থের ছড়াছড়ি ছিল না। কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে প্রাক্তন ক্যাপ্টেন মিতালি রাজ বলেছিলেন, ‘একটা সময় আমাদের কোনও বার্ষিক চুক্তি ছিল না। কোনও ম্যাচ ফি ছিল না। ২০০৫ বিশ্বকাপে যখন আমরা রানার্স হয়েছিলাম, তখন আমাদের ম্যাচ পিছু ১০০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তাও সেটা ছিল শুধুমাত্র বিশ্বকাপের জন্য।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘পরবর্তী সময়ে সবকিছু যখন বিসিসিআই নিয়ন্ত্রণে আসে তখন ম্যাচ ফি, বার্ষিক চুক্তি চালু হয়। এখন তো পুরুষ ও মহিলা দলের বেতনে সমতা রয়েছে।’ এখানে উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মহিলা ক্রিকেট ভারতের মহিলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা পরিচালিত হত। পরে মহিলা ক্রিকেট সংস্থা বিসিসিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়।
