রামপুরহাটঃ ফের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক। একরাত ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকার পর রবিবার তাদের শর্তসাপেক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন তাদের থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবার বীরভূমের নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের ভদ্রপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভগলদিঘী গ্রামের পাঁচ পরিযায়ী শ্রমিককে আটক করা হয়েছে ওডিশার ভদ্রক জেলার আগরপাড়া পুলিশ স্টেশনে। ধৃতরা হলেন মনিরুল শেখ, আব্দুল আলেম শেখ, সেলিম শেখ, আতাউর রহমান শেখ ও নুর আলম। আগরপাড়া থানার পারকুন্দা গ্রামে থাকতেন তাঁরা। সেখানে তাঁরা রয়েছেন গত ২৫ বছর ধরে। তাঁরা সেখানে ফেরি করে স্টিলের বাসন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শনিবার বাংলাদেশি তকমা লাগিয়ে তাদের থানায় তুলে যায় পুলিশ। তারা সংখ্যায় পাঁচজন ছিলেন। পরে তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। সকলেই ভগলদিঘী গ্রামের একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে পাঁচ পরিযায়ী শ্রমিকের ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়ার খবর পৌঁছায় পরিবারের লোকেদের কাছে। পরিবারের লোকজন এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব ও পঞ্চায়েত সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সহ নেতৃত্বরা হাঁসনের বিধায়ক ও নলহাটি থানার পুলিশ প্রশাসনকে ঘটনাটি জানায়। খবর পেয়ে লোহাপুর ক্যাম্পের পুলিশ আধিকারিকরা ধৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের স্থানীয় পরিচয় পত্রের নথি থানায় পাঠিয়ে দেয়। এরপরেই রবিবার বেলার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরিযায়ী শ্রমিক আতাউর রহমান বলেন, “দিন কয়েক আগে আমাদের ওডিশার আগরপাড়া থানায় ডেকে পাঠায়। ওইদিন আমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। শনিবার সকালে ফের ভদ্রক থানা আমাদের ডেকে পাঠিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়। এদিন সকালে আমাদের ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে আগরপাড়া থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে কাগজপত্র করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সেই সঙ্গে জানিয়ে দেয় প্রতিদিন থানায় একবার হাজিরা দিতে হবে”।
