বেলাকোবা: ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। সেই পরীক্ষায় ভালো ফল করার একটা ইচ্ছে ছিল। কিন্তু পারিবারিক সমস্যা মেটাতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কার্সিয়াংয়ে যাওয়ায় সেই ইচ্ছে আর পূরণ হল না। সেখানে কাজের সময় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গায়ে পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জয়দেব রায় প্রধানের (১৫) মৃত্যু হয় (Migrant Employee Loss of life)। বেলাকোবার ধুমভিটা এলাকার বাসিন্দা বেলাকোবা হাইস্কুলের (Belakoba Excessive Faculty) এই পড়ুয়ার আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় (Madhyamik Examination 2026) বসার কথা ছিল। শনিবার জয়দেবের মৃতদেহ বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। পেশায় কৃষক জয়দেবের বাবা রাজেন্দ্রনাথ রায় প্রধান, মা, দিদি ও পরিবারের সদস্যরা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন। কার্সিয়াং থানার আইসি পলাশ মহন্ত বললেন, ‘বিদ্যুৎবাহী হাই ভোল্টেজ তার ছিঁড়ে শরীরে পড়ে তিনজন আহত হয়েছে। তাদের একজনের মৃত্যু হয়েছে।’ গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
পরিবার সূত্রে খবর, বেলাকোবা হাইস্কুলের এই পড়ুয়া পড়াশোনায় মোটামুটি ভালো ছিল। মাধ্যমিকে ভালো ফল করবে বলে ইচ্ছেও ছিল। কিন্তু পারিবাবিক সমস্যার কারণে কিছু রোজগার করে পরিবারকে সুবিধা করে দিতে সে সম্প্রতি কয়েকজনের সঙ্গে কার্সিয়াংয়ে যায়। সেখানে গিয়ে সে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ঠিকাদারের অধীনে কাজ করছিল। মৃতের কাকা অচিন্ত্য রায় প্রধান বলেন, ‘শুক্রবার বেলা ২টো নাগাদ কাজের সময় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গায়ে পড়লে জয়দেব পুরোপুরি ঝলসে যায়। ও যে আর নেই সেটা বিশ্বাসই করতে পারছি না।’
পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে এই রাজ্যের অনেকের বাইরে কাজে যাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। অনেকেই যায়, বিপদেও পড়ে। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কারও পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজে গিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি যথেষ্টই উদ্বেগজনক। রাজ্যের পরিস্থিতি বর্তমানে কী তা এই ঘটনায় অনেকটাই পরিষ্কার বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য গোপাল রায় বললেন, ‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা। তবে কমবয়সি কাউকে এভাবে কাজে পাঠানোর বিষয়ে পরিবারগুলিরও যথেষ্ট সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।’ স্থানীয় বাসিন্দা অয়ন রায় প্রধানের মতো অনেকের একই বক্তব্য। প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনায় যে দুজন আহত হয়েছেন তাঁরা কার্সিয়াংয়ের বাসিন্দা।
বেলাকোবা হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মোজাহারুল হক বললেন, ‘জয়দেব পড়াশোনায় ভালোই ছিল। মাধ্যমিকে ভালো ফল করত বলে আমাদের ধারণা। কিন্তু একটা বেদনাজনক ঘটনা ঘটে গেল।’ ওই পড়ুয়ার স্মরণে ২ জানুয়ারি স্কুলে শোকসভা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
