মালদা: ফের ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হল মালদার এক পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant Employee Demise)। মৃত শ্রমিকের নাম ষষ্ঠী মাহাতো(৩৮)। তিনি হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাট্টা এলাকার বাসিন্দা। ওডিশায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে ষষ্ঠীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে এখন অথৈ জলে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান। ফের বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের ম্ররত্যুর ঘটনায় রাজ্যের কর্মসংস্থান ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে শাসকদলকে দুষছে বিজেপি।
দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিলেও, শেষরক্ষা হল না। ওডিশায় নির্মাণ শ্রমিকের কাজে গিয়ে অসুস্থ হাসপাতালে চিকিতসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের। ষষ্ঠী মাহাতোর পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী সোনালী মাহাতো এবং এক ছেলে ও এক মেয়ে। অভাবের সংসার চালাতে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভিন রাজ্যে পড়ে থাকতেন তিনি। সোনালীর অভিযোগ, স্বামীর অকাল প্রয়াণের পর এখনও পর্যন্ত কোনও জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনিক আধিকারিক তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। বর্তমানে তাঁদের বাস একটি জরাজীর্ণ ভগ্নপ্রায় ঘরে। সরকারি আবাসের তালিকায় নাম থাকলেও আজও মেলেনি আবাস যোজনার ঘর। এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ আর দু’বেলা অন্নের সংস্থান কীভাবে হবে তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন মৃতের স্ত্রী সোনালী।
এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে একহাত নিয়েছে বিজেপি। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যে কর্মসংস্থানের নূন্যতম সুযোগ নেই বলেই কাজের জন্য ভিনরাজ্যে যেতে হচ্ছে বাংলার মানুষকে। আর ঘরের ছেলেদের বাইরে গিয়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে। বিজেপি নেতাদের দাবি, “পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা দিতে রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাঁদের কোনো তথ্য ভাণ্ডার নেই এবং বিপদের দিনে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সদিচ্ছাও নেই।”
পাল্টা সাফাই দিয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সচেষ্ট। মৃত শ্রমিকের নাম যদি রাজ্য সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টালে নথিভুক্ত থাকে, তবে নিয়ম মেনে তাঁর পরিবার অবশ্যই আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাবে। মৃত শ্রমিক পরিবারের পাশে সবসময় থাকার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
