উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মেক্সিকোর (Mexico Prepare Accident) দক্ষিণ প্রান্তে ওক্সাকা (Oaxaca) রাজ্যে রবিবার এক ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার সাক্ষী হলো বিশ্ব। ২৫০ জনকে নিয়ে যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লাইনচ্যুত হয় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন। মেক্সিকান নৌবাহিনীর দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৯৮ জন।
ওক্সাকা রাজ্যের নিজান্দা (Nizanda) শহরের কাছাকাছি এলাকায় ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে ২৪১ জন যাত্রী এবং ৯ জন ক্রু সদস্য মিলিয়ে মোট ২৫০ জন ছিলেন। লাইনচ্যুত হওয়ার তীব্রতায় ট্রেনের কয়েকটি কামরা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় মাতিয়াস রোমেরো এবং সালিনা ক্রুজের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, চিকিৎসাধীন ৯৮ জনের মধ্যে ৩৬ জনের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও ৫ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তবে ভাগ্যক্রমে ১৯৩ জন আরোহী এই বড়সড়ো বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম (Claudia Sheinbaum) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সরকার আহতদের চিকিৎসা এবং মৃতদের পরিবারের সহায়তায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, এই আন্তঃসাগরীয় রেল প্রকল্পটি মেক্সিকো সরকারের একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ। ২০২৩ সালে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোরের আমলে এই আন্তঃসাগরীয় ট্রেনটির উদ্বোধন করা হয়েছিল। এটি মূলত মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দর সালিনা ক্রুজের সঙ্গে মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের কোয়াটজাকোয়ালকোসকে সংযুক্ত করে।
দক্ষিণ মেক্সিকোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এই রেললাইনটিকে পানামা খালের বিকল্প একটি বাণিজ্যিক করিডোর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিল সরকার। পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের সুবিধার্থে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে এই রেললাইনের আধুনিকীকরণ করা হয়েছিল। তবে উদ্বোধনের মাত্র দু-বছরের মাথায় এই ধরনের বড়সড়ো বিপর্যয় প্রকল্পের পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। উদ্ধারকাজ শেষে এখন ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে এই লাইনচ্যুতি, তা তদন্ত রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
