উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ লিওনেল মেসির ভারত সফর ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, কলকাতার অনুষ্ঠান ভেস্তে যাওয়ার পর তা দ্রুতই বিতর্কে রূপ নেয়। এবার সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল টাকার অঙ্ক। তদন্তকারীদের সামনে মুখ খুলে ‘গোট ট্যুর’-এর মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত জানালেন, মেসির ভারত সফরের মোট খরচ ছিল প্রায় ১০০ কোটি টাকা—যার সিংহভাগই গিয়েছে বিশ্বফুটবল তারকার পারিশ্রমিকে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ তদন্তকারী দলকে শতদ্রু দত্ত জানিয়েছেন—মেসিকে একা এই সফরের জন্য দেওয়া হয়েছে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি ভারত সরকারকে কর হিসেবে দিতে হয়েছে আরও ১১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে সফরের মোট ব্যয় দাঁড়ায় আনুমানিক ১০০ কোটি টাকায়।
এই বিপুল অঙ্কের অর্থ জোগাড়ের উৎস সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন আয়োজক। তাঁর দাবি, মোট খরচের প্রায় ৩০ শতাংশ এসেছে বিভিন্ন স্পনসরদের কাছ থেকে। আরও ৩০ শতাংশ আয় হয়েছে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে। সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে এক নজর দেখার আশায় হাজার হাজার দর্শক চড়া দামে টিকিট কাটেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর পর মাঠে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়তেই সেই উন্মাদনা ক্ষোভে পরিণত হয়। গ্যালারির চেয়ার ভাঙচুর হয়, কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় গোটা আয়োজন।
তদন্তে শতদ্রু দত্ত আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে মাত্র ১৫০টি গ্রাউন্ড পাস ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন এক ‘অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি’ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। তাঁর হস্তক্ষেপেই হঠাৎ করে গ্রাউন্ড পাসের সংখ্যা তিনগুণ হয়ে যায়। এর ফলেই ভেঙে পড়ে নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ পরিকল্পনা।
এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এই অতিরিক্ত প্রবেশাধিকারই কি মাঠে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রধান কারণ। শতদ্রু দত্ত তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, মেসির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিদেশি সংস্থা আগেই সতর্ক করেছিল—পিছন থেকে ছোঁয়া বা জড়িয়ে ধরা মেসি একেবারেই পছন্দ করেন না। বারবার মাইকে অনুরোধ জানানো হলেও মাঠে উপস্থিত অনেকেই সেই নির্দেশ মানেননি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনুষ্ঠানের সময় তাঁকে মেসির একেবারে কাছাকাছি দেখা গিয়েছিল। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয় ও পরিচিতদের মাঠে ঢোকার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। চাপ বাড়তেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন অরূপ বিশ্বাস।
এখন সিট তদন্ত করে দেখছে—কার নির্দেশে অতিরিক্ত প্রবেশপত্র দেওয়া হয়েছিল, কীভাবে এতজন মাঠের ভেতরে ঢুকে পড়ল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় কাদের উপর বর্তায়। ১০০ কোটির এই সফর শেষে প্রশ্নটা তাই শুধু টাকার নয়—দায়িত্ব ও জবাবদিহিরও।
