মেখলিগঞ্জঃ শ্বশুরবাড়িতে এক টোটো চালকের রহস্যময় মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল মেখলিগঞ্জের উচুলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্যাধপাড়া এলাকায় (Mekhliganj)। মৃত যুবকের নাম তাপস রায় (৪০)। তিনি জলপাইগুড়ির রথখোলার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতেই সপরিবারে বসবাস করছিলেন। বুধবার সকালে ঘরের ভেতর তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই খুনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা।
জানা গিয়েছে, পেশায় টোটো চালক ও ছিপ প্রস্তুতকারক তাপস রায় স্ত্রী জানোকি রায় ও ছেলেকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর তাঁকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এই খবর জানাজানি হতেই জলপাইগুড়ি থেকে তাপসের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মৃত যুবকের শ্বশুরবাড়ির গেট ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে মৃতের আত্মীয়দের বিরুদ্ধে।
মৃতের দিদি নমিতা রায়ের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমার ভাইকে মারধর করা হয়েছে। সে আত্মহত্যা করেনি বা অসুস্থতায় মারা যায়নি, তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।” তাঁরা এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মৃতের স্ত্রী জানোকি রায় জানিয়েছেন, গতকাল রাত থেকেই তাঁর স্বামীর বুক ও পেট ব্যথা করছিল। সকালে উঠে দেখেন তিনি আর বেঁচে নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় দাসের মতে, তাপস রায় শারীরিক দিক থেকে কিছুটা দুর্বল ছিলেন। তবে এলাকার একাংশের দাবি, প্রায়শই শ্বশুর ঝুনটু ব্যাধের সঙ্গে জামাই তাপসের পারিবারিক অশান্তি ও গন্ডগোল লেগেই থাকত। দীর্ঘদিনের এই পারিবারিক কলহ থেকেই এই মর্মান্তিক পরিণতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
খবর পেয়ে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মেখলিগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘটনায় জড়িতদের খোঁজে ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

