মেখলিগঞ্জ: মেখলিগঞ্জ শহরকে সাজিয়ে তুলতে পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেথরপট্টি পুল এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু উদ্যান মোড়ে বসানো হয়েছে ‘আই লাভ ওয়ার্ড’ লেখা বোর্ড। যার জন্য পুরসভার দু’লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। পরে আরও ৬টি ওয়ার্ডে এমন ‘ভালোবাসা’র বোর্ড বসানো হবে বলে জানানো হয়েছে। পুরসভার এমন উদ্যোগে খুশি শহরবাসী। একইভাবে মদনমোহনবাড়িতে ‘আই লাভ মদনমোহনবাড়ি’ লেখা বোর্ড বসানোর দাবি জানিয়েছেন অনেকে। এদিকে, শহরকে সাজিয়ে তোলাকে ভালো উদ্যোগ বলেও, পুরসভারকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।
রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় এমন ভালোবাসার বোর্ড লক্ষ করা যায়। মেখলিগঞ্জ পুরসভার এলাকা তেমন বড় না হওয়ায় আগে এই বোর্ড দেখা যায়নি। তবে মেখলিগঞ্জ শহরের বাসিন্দারাও যাতে ‘ভােলাবাসা’র সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন তার জন্য এই বোর্ড বসানের উদ্যোগ নেয় পুরসভা। এরই মধ্যে তিনটি ওয়ার্ডে বসানো হল বোর্ড।
এনিয়ে শহরের বাসিন্দা মৈনাক সরকার বলেন, ‘বোর্ডগুলি লাগানোর পর শহরটাকে আরও সুন্দর লাগছে।’ মেখলিগঞ্জ মদনমোহনবাড়িতেও ‘আই লাভ মদনমোহনবাড়ি’ লেখা বোর্ড বসানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, পুরসভার এমন উদ্যোগকে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির মেখলিগঞ্জ শহর মণ্ডল কমিটিরর সভাপতি আশেকার রহমান। তাঁর কথায়, ‘আমরা সৌন্দর্যায়নের বিরোধী নয়। কিন্তু অর্থ নয়ছয় করে সৌন্দর্যায়ন ঠিক নয়। পুর কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না পুরসভা। অথচ জনগণের করের টাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে লাইটিং বোর্ড লাগিয়ে বেড়াচ্ছে। এভাবে টাকা অপচয় না করে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের জলনিকাশি ব্যবস্থা, বেহাল রাস্তা ঠিক করায় নজর দেওয়া উচিত।’ তাঁর অভিযোগ, চেয়ারম্যান বলেছিলেন নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে শহরকে সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এখনও তা পূর্ণ হয়নি। এসব দিক থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য চেয়ারম্যান ললিপপ দেখাচ্ছেন। কিছু কাছের ঠিকাদারকে কাজ দিয়ে দলীয় ফান্ড বৃদ্ধির জন্য এসব করা হচ্ছে।
এমন অভিযোগের পর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনি পালটা কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতাকে। চেয়ারম্যানের কথায়, ‘পুরসভায় বিজেপি কখনও ক্ষমতায় আসেনি, ভবিষ্যতেও আসবে না। তাই পুরসভার কোন ফান্ড কোন কাজে ব্যবহার হয় সেই বিষয়ে তাদের জ্ঞান না থাকাটাই স্বাভাবিক। সিসিটিভি বসানোর কাজ দ্রুতগতিতে হচ্ছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘বিজেপি নেতাদের সাবধানে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। কেননা তাঁরাও সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আসতে চলেছেন।’
