Ratua Homicide | বন্ধুকে মেরে দেহ কুয়োয়, জগবন্ধুটোলা গ্রামের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ কিশোর

Ratua Homicide | বন্ধুকে মেরে দেহ কুয়োয়, জগবন্ধুটোলা গ্রামের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ কিশোর

ব্লগ/BLOG
Spread the love


শেখ পান্না, রতুয়া: ঝগড়া থেকে মারামারি। মারতে মারতে একেবারে মেরেই ফেলেছিল বন্ধুরা। তারপর দেহ ফেলে দেয় একটি পরিত্যক্ত কুয়োয়। গত ২ ডিসেম্বর একটি স্কুল লাগোয়া পরিত্যক্ত কুয়োতে মিলেছিল এক অষ্টম শ্রেণির ছাত্রের দেহ। অঙ্কুর সরকার নামে বছর পনেরোর সেই মৃত কিশোরের বাড়ি রতুয়া থানার মহানন্দটোলার জগবন্ধুটোলা গ্রামে৷ আর সেই ঘটনায় আটক করা হয়েছে ৩ জনকে। সেই ৩ জনই সেই কিশোরের বন্ধু। তারাও নাবালক।

১ ডিসেম্বর নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল অঙ্কুর। ২০ ঘণ্টা পর তার দেহ উদ্ধার হয়েছিল বিহারে৷ কুয়ো থেকে সেই দেহ উদ্ধার করে বিহারের কাটিহার জেলার আমদাবাদ থানার পুলিশ৷ এই ঘটনায় শুক্রবার সকালে জগবন্ধুটোলা গ্রামের তিন কিশোরকে আটক করা হয়েছে৷ তাদের বিহার নিয়ে গিয়েছে আমদাবাদ থানার পুলিশ৷ অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা এদিন বিক্ষোভ দেখিয়েছেন মহানন্দটোলা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে।

সোমবার সন্ধ্যায় অঙ্কুর গ্রামেরই এক বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে বেরিয়েছিল। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। খোঁজাখুঁজি করেও কোনও সন্ধান পাননি তার বাড়ির লোকজন। অবশেষে মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ি থেকে ৩০০ মিটার দূরে, কাটিহার জেলার আমদাবাদ থানার বিনোদটোলা গ্রামের একটি বিদ্যালয়ের কুয়োতে তার মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় রতুয়া ও আমদাবাদ থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।

এই ঘটনায় রতুয়া থানার মহানন্দটোলা ফাঁড়ির পুলিশ তিন সন্দেহভাজনকে আটক করে৷ পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তিনজনের বাড়ি জগবন্ধুটোলা গ্রামে। তাদের মধ্যে দুজন তো অঙ্কুরের স্কুলেই পড়াশোনা করে৷ আরেকজন মাধ্যমিকে অকৃতকার্য হওয়ার পর আর পড়াশোনা করেনি৷ জিজ্ঞাসাবাদে তারা তিনজনই অঙ্কুরকে খুন করার কথা স্বীকার করে নিয়েছে৷

পুলিশ জানিয়েছে, এদিন বিহারের আমদাবাদ থানার পুলিশ তিনজনকে নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে৷ এই ঘটনায় মহানন্দটোলা ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে৷

তবে খুনের কারণ হিসাবে জেরায় একেকজন একেকরকম কথা বলছে। তাই পুলিশও ধন্দে পড়েছে৷ কী ঘটেছিল? সেই ৩ নাবালক জানিয়েছে, সেদিন তারা বিয়েবাড়ি যাওয়ার আগে প্রথমে একসঙ্গে গাঁজা সেবন করে৷ তারপর বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার সময় একটি আম বাগানে তারা প্রথমে অঙ্কুরকে মারধর করে৷ তারপর তাকে সেই কুয়োর মধ্যে ফেলে দেয়৷

অঙ্কুরের বাবা চন্দন সরকার বলেন, ‘১ তারিখ বিকেল সাড়ে চারটেয় ওরা বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধে সাড়ে ছ’টায় আমি অঙ্কুরকে ফোন করি৷ কিন্তু ওর ফোন সুইচড অফ ছিল৷ রাত ন’টা পর্যন্ত আমি ওকে ফোন করে গিয়েছি৷ রাতে ওই ৩ বন্ধুকে গ্রামে ঘোরাঘুরি করতে দেখি। আমি ওদের বলি, ওরা যেন আমার ছেলেকে ফোন করে৷ তখনও আমি বুঝতে পারিনি কী ঘটেছে।’

ছেলের হত্যায় যারা জড়িত, তাদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতে একই দাবি করেছেন অঙ্কুরের মা পূজামালা মণ্ডল সরকারও৷ পাশাপাশি এই ঘটনায় ৩ জনের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারাও৷ মহানন্দটোলা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এদিন তাঁরা নিজেদের দাবির সমর্থনে বিক্ষোভও দেখান কিছুক্ষণ৷



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *