মেখলিগঞ্জ: অন্নপূর্ণা ভান্ডার (Annapurna Bhandar) যোজনার টাকা অ্যাকাউন্টে না ঢোকার ক্ষোভে তুলকালাম কাণ্ড মেখলিগঞ্জ (Mekhliganj) পুরসভায়। ক্ষুব্ধ জনতার রোষের মুখে পড়লেন খোদ পুরসভার চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনী। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে দেদার ডিম (Egg) ছোড়া হয়।
শুক্রবার মেখলিগঞ্জ শহরের একাংশের মহিলারা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে পুরসভায় ভিড় জমান। তাঁরা সরাসরি চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনীর ঘরে ঢুকে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। অভিযোগ, সেই সময় উপস্থিত জনতা আচমকা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং চেয়ারম্যানকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে থাকে। ডিমের হাত থেকে বাঁচতে প্রভাতবাবু ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, আন্দোলনকারীরা তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে আটকে রাখেন বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ শাহবাজের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিজেপির মেখলিগঞ্জ শহর মন্ডল কমিটির সভাপতি আশেকার রহমানও ঘটনাস্থলে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে পুরসভার কর্মচারীদের তরফে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভের সময় পুরসভার মহিলা কর্মীদের বিবস্ত্র করে ঘোরানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
আন্দোলনকারী দীপক বর্মন জানান, “মা বোনেরা এসেছে কারণ তারা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করলেও আজ পর্যন্ত তাদের টাকা ঢোকেনি। পুরসভায় এসে জানা যায় যে, পুরসভার ডাটা এন্ট্রি হয়নি। ২ নং ওয়ার্ডে ১০০ থেকে ১৫০ নাম আপডেট হয়নি। পুরসভার চেয়ারম্যান কথা দিয়েছেন সোমবারের মধ্যে সমস্ত ডাটা এন্ট্রি হবে। নয়তো মঙ্গলবার আবারও মা বোনেরা আসবে।”
অন্য এক আন্দোলনকারী দীপা সিং সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, “সোমবারের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে মঙ্গলবার আমরা আবার আসবেন তাঁরা।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও চেয়ারম্যানের বয়ান
- চেয়ারম্যান প্রভাত পাটনী: “অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা পাওয়া না পাওয়ার সাথে পুরসভার চেয়ারম্যান-এর কোনও সম্পর্ক নেই। কারও হয়তো শেখানো ছিল। মহিলারা এসেছিল, আমি তাদের সাথে মহকুমা শাসকের কথাও বলিয়েছি। তারপর একদল দুষ্কৃতী আসে ও তাদের নতুন কালচার ডিম থেরাপি প্রয়োগ করে।”
- বিজেপি নেতা আশেকার রহমান: “মেখলিগঞ্জ পুরসভা শুধু নয়, প্রতিটি পুরসভায় এমন হচ্ছে। মেখলিগঞ্জে একমাস সময় পাওয়ার পরেও অভিভাবকহীন পুরসভা ১৪০০ ফর্ম ফিল্ড ভেরিফিকেশন ও ডাটা এন্ট্রির কাজ করতে পারেনি। তাই সাধারণ মানুষ গর্জে উঠে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হয়েছে।”
সোমবারের মধ্যে মেখলিগঞ্জ পুরসভা এই জটিলতার সমাধান করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

