উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দিল্লির সংসদের মতোই এবার আমূল বদলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অন্দরমহল। লোকসভা কিংবা রাজ্যসভার অধিবেশন যেভাবে টিভি বা ডিজিটাল পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারিত হয়, এবার থেকে বাংলার বিধানসভার (Meeting Reside Stream WB) ক্ষেত্রেও চালু হচ্ছে সেই একই নিয়ম। শুক্রবার অষ্টাদশ বিধানসভার স্পিকার নির্বাচনের পর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।
এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, বিধানসভার ভেতর সরকার কিংবা বিরোধী পক্ষ কী ভূমিকা পালন করছে, তা জানার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে সাধারণ মানুষের। জনগণের এই নজরদারি গণতন্ত্রকে আরও স্বচ্ছ করবে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “বিধানসভায় সকলেই জনগণের প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন। সরকারপক্ষ কী করছে, বিরোধীপক্ষ কী ভূমিকা নিচ্ছে, সব জানার অধিকার জনতার আছে। গোপনীয়তার কিছু নেই। লাইভ স্ট্রিমিং হবে, মানুষের নজরদারি থাকবে।”
সূত্রের খবর, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলেও সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা ছিল, তবে তা ছিল আংশিক। মূলত মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতার দিন বা বিশেষ কিছু দিনেই তা দেখানো হতো। কিন্তু নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এবার থেকে অধিবেশনের প্রতিটি দিনই লাইভ সম্প্রচার করা হবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।
শুক্রবার কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু বিধানসভার নতুন স্পিকার নির্বাচিত হন। রথীন্দ্রনাথবাবুকে শুভেচ্ছা জানান বিদায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও। নতুন স্পিকারকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি এদিন বিধানসভার গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধী পক্ষকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গঠনমূলক বিরোধিতা চাই। বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়। সংবিধানের পরিভাষায় Home belongs to the Opposition।”
একইসঙ্গে আগের তৃণমূল সরকারকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি শুভেন্দু। বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই যেন সমান (৫০-৫০) বলার সুযোগ পায়, সেই আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, “১১ মাস যেন বিরোধী দলের নেতাকে বিধানসভার বাইরে না-রাখা হয়।” সব মিলিয়ে, প্রথম দিনই লাইভ সম্প্রচারের এই বড় ঘোষণা বিধানসভার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
