উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নিউ ইয়র্কের ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানির (MEA slams NY Mayor over Umar Khalid letter) সাম্প্রতিক এক কর্মকাণ্ডে তীব্র অসন্তুষ্ট নয়াদিল্লি। দিল্লির জেলে বন্দি ছাত্রনেতা উমর খালিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে মামদানির (Zohran Mamdani) একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিচারব্যবস্থা নিয়ে মামদানির এই চিঠি ‘ব্যক্তিগত পক্ষপাত’ হিসেবে দেখছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।
ঘটনার সূত্রপাত গত ডিসেম্বরে, যখন উমর খালিদের বাবা-মা আমেরিকায় গিয়ে জোহরান মামদানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সময় উমরের উদ্দেশে নিজের হাতে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি লিখেছিলেন মামদানি। চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, “প্রিয় উমর… তিক্ততা যেন কখনও নিজের সত্তাকে গ্রাস না করে ফেলে, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সকলে তোমার কথা ভাবছি।” সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে উমরের জামিন মামলার শুনানির ঠিক আগে সেই চিঠি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেন তাঁর বান্ধবী বনজ্যোৎস্না লাহিড়ি। এর পরেই বিষয়টি দিল্লির নজরে আসে।
শুক্রবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কোনো রাখঢাক না করেই মামদানিকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, জনপ্রতিনিধিরা অন্য দেশের গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। নির্দিষ্ট পদে থেকে ব্যক্তিগত পক্ষপাত প্রকাশ করা তাঁদের শোভা পায় না।” পাশাপাশি বিদেশ মন্ত্রক থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, অন্য দেশের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য না করে তাঁদের নিজেদের দায়িত্ব পালনে মনোনিবেশ করা উচিত।
২০২০ সালের দিল্লি হিংসায় (Delhi Violence) মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযুক্ত জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ (Umar Khalid) পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে জেলবন্দি। গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার সাত অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচজনের জামিন মঞ্জুর হলেও, উমর এবং শারজিল ইমামের জামিন মেলেনি। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, অন্তত এক বছর পর তাঁরা ফের আবেদন করতে পারবেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকার এক জনপ্রতিনিধির এই ব্যক্তিগত সংহতিবার্তাকে কোনোভাবেই ভালো চোখে দেখছে না ভারত সরকার।
