দিনহাটা: এতদিন দিনহাটায় যাঁদের মাথায় উদয়ন গুহের ‘হাত’ ছিল তাঁদের দুশ্চিন্তার বালাই ছিল না। কিন্তু ৪ মে উদয়ন-জমানা শেষ হতেই একে একে বিপাকে পড়ছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা। এবার সেই তালিকায় নবতম সংযোজন দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের সুপার রণজিৎ মণ্ডল। ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, স্বেচ্ছাচারিতা সহ তাঁর বিরুদ্ধে আগে একাধিক অভিযোগ উঠলেও তিনি তৃণমূল ও উদয়নের ছত্রছায়ায় থাকায় কোনও পদক্ষেপ হয়নি। তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই রণজিতের বদলির দাবি তুলছেন তাঁর সহকর্মী ও দিনহাটাবাসীর একাংশ। যদিও রণজিৎ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
টানা ১৫ বছর ধরে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের সুপার পদে রয়েছেন রণজিৎ। উদয়ন ওই হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর ‘কাছের মানুষ’ হয়ে ওঠেন তিনি। এমনকি পদোন্নতি হওয়া সত্ত্বেও রণজিৎ পদ ছাড়েননি। চিকিৎসকরা প্রকাশ্যে না হলেও আড়ালে-আবডালে প্রশ্ন তুলতেন, কী এমন ‘মধু’ রয়েছে যে রণজিৎ মহকুমা হাসপাতাল ছাড়তে চান না! তবে রণজিতের দাবি, ‘আমি এতদিন এই পদে থাকতে চাইনি। সরকার আমায় রেখেছে। পদোন্নতি পেলে তো ভালোই হত। আরও সুযোগ পেতাম। সরকার যদি বদলির আদেশ দেয়, তবে অবশ্যই চলে যেতে হবে। সেখানে আমার করণীয় কিছুই থাকবে না।’
তৃণমূল আমলে রণজিৎ নিয়মিত হাসপাতালে আসতেন না। তাঁকে চেম্বারে কম তৃণমূলের মঞ্চে বেশি দেখা যেত বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমানের কোনও একটি আসন থেকে তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন রণজিৎ। যে কারণে তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালমুখো হননি। তবে শেষপর্যন্ত দেখা যায়, তিনি টিকিট পাননি। এদিকে তাঁর অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে নানা সমস্যা দেখা দেয়। নিজের অনিয়মিত উপস্থিতি প্রসঙ্গে রণজিতের সাফাই, ‘সারা বছরে সব মিলিয়ে ১০০টিরও বেশি ছুটি থাকে। আমি সেগুলোই ব্যবহার করেছি।’
৩০০ শয্যাবিশিষ্ট ওই হাসপাতালে সাফাইকর্মী ও চিকিৎসক সংকট, বর্জ্য অপসারণ সহ নানা সমস্যা রয়েছে। হাসপাতালের যত্রতত্র জমে থাকছে বর্জ্য। হাসপাতাল বিল্ডিংয়ের একাধিক জায়গায় খসে পড়ছে চাঙড়, নিকাশিনালার জল উঠেছে হাসপাতাল চত্বরে। কিন্তু কখনও ওই সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেননি রণজিৎ। বরং টেন্ডার ছাড়াই এক তরুণকে তিনি হাসপাতাল চত্বরে সাইকেলস্ট্যান্ডের অনুমতি দেন। যা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে সরব হন। হাসপাতালের বহির্বিভাগের গেটের কাছে একাধিক দোকান গড়ে উঠলেও সুপার হিসেবে রণজিৎ কোনও পদক্ষেপ করেননি বলে অভিযোগ। কিন্তু উদয়নের ‘আশীর্বাদে’ রণজিতের কিছু হয়নি। তবে সম্প্রতি উদয়ন হেরে যাওয়ার পর হাসপাতালের ওই সাইকেলস্ট্যান্ডটি বন্ধ হয়েছে।
টেন্ডার ছাড়া সাইকেলস্ট্যান্ডের অনুমতি প্রসঙ্গে রণজিৎ বলেন, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ। নির্দিষ্ট টেন্ডারের মাধ্যমে ওই তরুণ সুযোগ পেয়েছে এবং মাসে মাসে তার জন্য সে হাসপাতালকে টাকা দেয়।’ দিনহাটার বিজেপির জয়ী প্রার্থী অজয় রায়ের কথায়, ‘হাসপাতালের পরিকাঠামো থেকে পরিচ্ছন্নতা সহ নানা বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে। কলকাতা থেকে ফিরে সব খতিয়ে দেখে যা করার করব।’
