Mathabhanga । ‘কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না’, ফোনে পরিবারকে জানানোর পর থেকেই কুম্ভে নিখোঁজ বৃদ্ধ

Mathabhanga । ‘কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না’, ফোনে পরিবারকে জানানোর পর থেকেই কুম্ভে নিখোঁজ বৃদ্ধ

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


মাথাভাঙ্গা: মৌনী অমাবস্যায় প্রয়াগরাজে অমৃতস্নানে গিয়ে ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। আর এই খবরে মাথাভাঙ্গার পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর পচাগড় গ্রামের মহেন্দ্র বর্মনের (৬৪) বাড়িতে উৎকন্ঠায় রয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কেন?

উল্লেখ্য, উত্তর পচাগড় এবং পাশের গ্রাম ভবেরহাটের বাসিন্দা মহেন্দ্র বর্মন, তাপস বর্মন, নিরঞ্জন বর্মন, ভবন বর্মন, মালতি বর্মন, বকুল পাল, অর্চনা বিশ্বাস মিলিয়ে মোট ১৪ জনের একটি দল ২৬ জানুয়ারি মাথাভাঙ্গা রেল স্টেশন থেকে পদাতিক এক্সপ্রেসে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কলকাতা থেকে অন্য একটি ট্রেনে ২৮ জানুয়ারি প্রয়াগরাজে গিয়ে পৌঁছান তাঁরা। এদিকে মঙ্গলবার রাতে ত্রিবেণী সঙ্গমে পদপিষ্ট হয়ে অনেক পুণ্যার্থীর মৃত্যুর খবর গ্রামদুটিতে পৌছানোর পর উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে দুটি গ্রামেই। তবে অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা পুণ্যার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমর্থ্য হলেও মহেন্দ্র বর্মনের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন।

এই প্রসঙ্গে মহেন্দ্র বর্মনের ছেলে মিন্টু বর্মন বলেন, ‘২৮ জানুয়ারি প্রয়াগরাজে পৌঁছানোর আগে পর্যন্ত বাবা ট্রেনে সকলের সঙ্গেই ছিলেন। বাবার কাছে মোবাইল ফোন না থাকায় প্রতিবেশীদের মোবাইলেই তার খবরাখবর নেওয়া হয়েছে। তবে মঙ্গলবার বেলা ১টায় ট্রেন থেকে নামার পর যাদের সঙ্গে তিনি ওখানে গিয়েছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এরপর বাবা কুম্ভমেলার ২৫ নম্বর সেক্টর পুলিশের মোবাইল থেকে বাড়িতে ফোন করে জানান ট্রেন থেকে নেমে কাউকে খুঁজে পাচ্ছিনা পাশের বাড়ির তাপস বর্মনের মোবাইল নম্বর দাও। এরপর বাবাকে তাপস বর্মনের মোবাইল নম্বর জানাই। মঙ্গলবার দুপুরে সেটাই বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে তারপর আর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি।’

এদিকে তাপস বর্মনের মোবাইল ফোন সুইচ অফ হয়ে যাওয়ায় তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। মিন্টু জানান, যে সেক্টর অফিস থেকে তাঁর বাবা শেষবারের মতো ফোন করেছিলেন সেই সেক্টর অফিসের নম্বরে ফোন করলে তারা জানিয়েছেন, যেখানে পদপৃষ্ঠের ঘটনা ঘটেছিল সেক্টর ২৫ সেখান থেকে অনেক দুরে তাই আশঙ্কার কোনও কারণ নেই।

এদিকে স্বামীর খোঁজ না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মহেন্দ্র বর্মনের স্ত্রী শেফালী বর্মন। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই কুম্ভমেলায় যাওয়ার কথা বলেন। বাধাও দিয়েছিলাম কিন্তু আমার কথায় কর্ণপাত করেনি।’ তারাপীঠ, দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাটের মত ধর্মস্থানে গেলেও ভিন রাজ্যের ধর্মস্থানে যাওয়া এই প্রথম মহেন্দ্রবাবুর। স্বাভাবিকভাবেই স্বামী কোথায় আছে আর কবেই বা ফিরবে ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না শেফালী দেবী সহ গোটা পরিবার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *