বিশ্বজিৎ সাহা, মাথাভাঙ্গা : এ যেন তুঘলকি কাণ্ডকারখানা! মাথাভাঙ্গা পুর এলাকায় নিকাশিনালা দখল করে সেন্ট্রি পয়েন্ট (রক্ষী মোতায়েনের জন্য নির্দিষ্ট ঘর) নির্মাণের অভিযোগ উঠল খোদ পুলিশের বিরুদ্ধে। সেটাও আবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তন্ময় মুখোপাধ্যায়ের বাংলোর সামনে। পুরসভার বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, নালার উপর সেন্ট্রি পয়েন্ট নির্মাণের বিষয়ে পুলিশের তরফে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। আর এনিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এদিকে, নিজের বাংলোর সামনে নির্মাণ চললেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাননি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তবে পুলিশের সাফাই, এই নির্মাণ অস্থায়ীভাবে হচ্ছে। স্থায়ীভাবে নয়। নাগরিকদের প্রশ্ন, যেখানে পুরসভার তরফে বিভিন্ন সময় পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, সেখানে অনুমতি ছাড়া এই নির্মাণ কি নিয়মের লঙ্ঘন নয়?
রবিবার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের থানাপাড়ার ব্রজনাথ রোডে গিয়ে দেখা গেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের বাংলোর দোরগোড়ায় নিকাশিনালার উপর সেন্ট্রি পয়েন্টের নির্মাণ চলছে। বাংলোর নেমপ্লেটে সন্দীপ গড়াইয়ের নাম লেখা রইলেও তিনি প্রশিক্ষণে গিয়েছেন। আপাতত দায়িত্বে এসেছেন তন্ময় মুখোপাধ্যায়। অনুমতি ছাড়া এই নির্মাণ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পুলিশ, পুরসভা উভয়ই।
বিজেপির কোচবিহার জেলা সাধারণ সম্পাদক মনোজ ঘোষ বলেছেন, ‘পুরসভা মুখে বলছে জবরদখল হতে দেব না, অথচ প্রকাশ্যে জবরদখল চললেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নিকাশিনালা দখল করে নির্মাণ বেআইনি। এটা তো আইনের রক্ষকদের মাথায় রাখা উচিত।’ সিপিএম নেতা অসিত দাসের বক্তব্য, ‘নালা, ফুটপাথ দখল করে বেআইনি নির্মাণে আমরা সাধারণ মানুষকে বাধা দিই, কিন্তু পুলিশ, প্রশাসন যখন সেই কাজ করছে, তখন পুরসভা চুপ কেন?’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ীর বক্তব্য, তাঁরা নিকাশিনালার উপর বেআইনি নির্মাণ করায় তা পুরসভার পক্ষ থেকে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তাহলে পুলিশের বেলায় পুরসভা চুপ কেন?
৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা পুরসভার ভাবী চেয়ারম্যান প্রবীর সরকারের এলাকার ঘটনা এটি। ফলে তাঁর দিকেও আঙুল উঠছে। তাঁর সাফাই, ‘বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশ জানিয়েছে, আধিকারিকের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই নির্মাণ।’ কিন্তু প্রশ্ন হল, নিরাপত্তার অজুহাতে কি আইন ভাঙা যায়? যদিও এব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
বিজেপি ও সিপিএম জানিয়েছে, তারা এবিষয়ে চেয়ারম্যানের পাশাপাশি মহকুমা শাসকের কাছে ডেপুটেশন দেবে। অন্যদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান এবং ভাবী চেয়ারম্যান দুজনেই জানালেন, সোমবার কাউন্সিলারদের সঙ্গে আলোচনা করে এবিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। এখন কী পদক্ষেপ হয়, সেদিকে তাকিয়ে শহরবাসী।
