মাথাভাঙ্গা: ছাত্রকে শাসনের অভিযোগে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হল এক শিক্ষককে। কিন্তু সেই আদালত কক্ষই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল শিক্ষকের প্রতি সম্মান ও সমর্থনের মঞ্চ।
সম্প্রতি মাথাভাঙ্গা (Mathabhanga) হাইস্কুলের শিক্ষক তন্ময় চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রের অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে মাথাভাঙ্গা আদালতে হাজির করা হলে এসিজেএম শিভম মিশ্র অভিযোগপত্র দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিচারকের মন্তব্য, “শিক্ষকেরা শাসন করেন বলেই আমরা আজ এই জায়গায় পৌঁছেছি।” তিনি শিক্ষককে পিআর বন্ডে মুক্তি দেন এবং তদন্তকারী অফিসারকে এই ধরনের মামলা শুরু করার কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দেন।
ঘটনার আরও তাৎপর্যপূর্ণ দিক, আদালতের প্রায় সব আইনজীবী ও সরকারি আইনজীবীও শিক্ষকের (Instructor) পাশে দাঁড়ান (Assist)। আদালত চত্বরের বাইরে অপেক্ষায় ছিল তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা। মুক্তির পর ফুল দিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানায় তারা। এই বিষয়ে আবেগাপ্লুত সেই শিক্ষক জানান, এদিনের সমর্থন তাঁকে আগামী দিনেও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষকতা করার নতুন শক্তি দিয়েছে।
একদিকে অভিযোগ, অন্যদিকে শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্কের আবেগ— এই ঘটনাকে ঘিরে মাথাভাঙ্গায় শুরু হয়েছে শাসন, শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন আলোচনা। শিক্ষককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ঘটনায় শিক্ষামহল ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে এখন কার্যত একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, শাসন আর শাস্তির সীমারেখা কোথায়?

