উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ পাঁচ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের জন্য ভারত সফরে এলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio India Go to)। মঙ্গলবার দুপুরে মুম্বইয়ে পৌঁছে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসের সঙ্গে সস্ত্রীক গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া পরিদর্শন করেন তিনি। পাশাপাশি, ২৬/১১ মুম্বই হামলায় নিহতদের স্মৃতিস্থলে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান মার্কিন বিদেশসচিব। এরপর বিকেলে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ঐতিহাসিক তাজমহল প্যালেস হোটেলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন তিনি।
মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মঙ্গলবার দুপুর সওয়া দুটো নাগাদ অবতরণ করে মার্কো রুবিওর বিমান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে তিনি জানান, আমেরিকার বিদেশ দফতর সরাসরি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা না করলেও ওয়াশিংটন এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।
রুবিও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা চুক্তির খুব, খুব কাছাকাছি রয়েছি। চুক্তি সম্পাদন করা ছাড়া যতটা কাছাকাছি থাকা সম্ভব, আমরা ঠিক ততটাই কাছাকাছি পৌঁছেছি।” চুক্তি চূড়ান্ত হতে আর সামান্য কিছু বিষয় বাকি রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই সুখবর মিলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পৌনে চারটে নাগাদ শুরু হওয়া দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং খনিজ প্রসঙ্গ বিশেষভাবে স্থান পায়। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল আমদানির জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা করায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারতের কৌশলগত স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নয়াদিল্লির বহুমুখী জ্বালানি আমদানি নীতির ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, “ভারত যে তাদের জ্বালানি-উৎসের বৈচিত্র বৃদ্ধির চেষ্টা করছে, তা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। রাতারাতি এই পরিবর্তন সম্ভব না হলেও এই বিষয়ে ভারতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখে আমরা আনন্দিত।” উল্লেখ্য, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর আগেই রাশিয়ার বিকল্প তেল সরবরাহকারী হিসেবে ভেনেজুয়েলার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা অংশীদারি এবং প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়াকে আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন মার্কিন বিদেশসচিব। ওয়াশিংটনের কাছে নয়াদিল্লির কৌশলগত গুরুত্ব যে দিন দিন আরও বাড়ছে, রুবিওর এই সফর তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

