উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভারতের মানচিত্র বিকৃত (Map Controversy) করার মাশুল গুনতে হল নেপালের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা ‘নেপাল এয়ারলাইন্স’-কে (Nepal Airways)। নিজেদের রুট ম্যাপে জম্মু-কাশ্মীর (Jammu and Kashmir) ও লাদাখকে (Ladakh) পাকিস্তানের অংশ হিসেবে দেখিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ল তারা। নেটিজেনদের গণরোষ এবং কড়া কূটনৈতিক বার্তার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পোস্টটি মুছে নিঃশর্ত ক্ষমা (Apology) চেয়েছে সংস্থাটি।
জানা গিয়েছে, বুধবার নেপাল এয়ারলাইন্স তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি রুট ম্যাপ শেয়ার করে। সেখানে দেখা যায়, ভারতের জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানের সীমানার ভেতরে রাখা হয়েছে। এই ছবি ভাইরাল হতেই ঝড়ের গতিতে ক্ষোভ আছড়ে পড়ে এক্স (পূর্বতন টুইটার) ও ফেসবুকে। ভারতীয় ব্যবহারকারীরা এই ঘটনাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্ররোচনা’ হিসেবে অভিহিত করেন। শুরু হয় ‘#BoycottNepalAirlines’ ট্রেন্ড।
বিতর্ক মাত্রাছাড়া রূপ নিলে নেপাল এয়ারলাইন্স তড়িঘড়ি পোস্টটি ডিলিট করে দেয়। এক বিবৃতিতে তারা লেখে, ‘এটি একটি গুরুতর মানচিত্রগত ত্রুটি (Cartographic inaccuracy)। এই ম্যাপ কোনওভাবেই নেপাল সরকার বা সংস্থার অফিসিয়াল অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।’ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে তারা।
We sincerely apologize for error within the community map just lately shared on our social media channels. The map contained vital cartographic inaccuracies concerning worldwide boundaries that don’t replicate the official stance of Nepal or Nepal Airways. pic.twitter.com/E5MZSS8CjQ
— Nepal Airways🇳🇵 (@NepalAirlinesRA) April 30, 2026
জনপ্রিয় ভোজপুরি অভিনেতা ও গায়ক খেসরিলাল যাদব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে একে ভারতের বিরুদ্ধে উসকানি বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, বহু নেটিজেন মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ভারত সবসময় নেপালের অর্থনীতি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ভাইয়ের মতো পাশে থেকেছে। কাঠমান্ডুর নবনির্বাচিত তরুণ প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের জমানায় এই ধরণের ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে নেপাল এয়ারলাইন্স ভারতের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আরও বাড়াতে চাইছে। বিশেষ করে কাঠমান্ডু-দিল্লি রুটে উড়ানের সংখ্যা বাড়িয়ে সপ্তাহে ১০টি করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এই বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের মুখে দাঁড়িয়ে এমন ভুল ভারতের জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবেশী দেশের স্পর্শকাতর সীমান্ত বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল এই বিমান সংস্থার।
