ভারতের প্রথম মহিলা কুস্তিগির হিসাবে বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে শুক্রবার সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন মণীষা ভানওয়ালা। মহিলাদের ৫৯ কেজি বিভাগের ফাইনালে পিছিয়ে পড়েও মনীষা ৮-৬ ব্যবধানে হারালেন আমেরিকার অ্যাবিগেল নেটেকে। মণীষা একটা সময় ০-৬ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিলেন। সেখান থেকে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটান।
অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসে ভারত কুস্তি থেকে পদক জিতেছে ধারাবাহিক ভাবে। কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা এত দিন ছিল না। এর আগে ২০২১ সালে অংশু মালিক ফাইনালে উঠেও হেরে গিয়েছেন। এবারও দু’জন কুস্তিগির ফাইনালে উঠে হেরেছেন। ৫০ কেজি বিভাগে নীলম সিরোহি এবং ৬ কেজি বিভাগে কাজল ধোচাক ফাইনালে উঠলেও রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। কিন্তু মনীষা ভুল করলেন না। পুরুষ বিভাগে একমাত্র ভারতীয় কুস্তিগির হিসাবে সুশীল কুমারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
মনীষা ফাইনালে একটা সময় বেশ চাপে ছিলেন। প্রথম রাউন্ডের শেষে ১-৫ পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু শেষ রাউন্ডে সব বদলে যায়। তিন মিনিটে সাত পয়েন্ট জিতে নিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন মনীষা। সদ্য এশিয়ান গেমসে কোনও পদক পাননি। সেই আক্ষেপ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে মেটালেন মনীষা। চমকপ্রদভাবে মনীষা পোডিয়ামে একটি বিশেষ টি-শার্ট পরে এসেছিলেন। সেই টি-শার্টে তাঁর বাবা-মায়ের ছবি ছিল। অভিভাবকদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতেই ওই পদক্ষেপ।
আসলে বাবা সুরেশ ভানওয়াল না থাকলে কুস্তিতে আসাই হত না মনীষার। ১৩ বছর বয়সে একপ্রকার জোর করেই মনীষাকে কুস্তির আখাড়ায় পাঠান সুরেশ। আসলে পরিবারের অন্য সদস্যরা কবাডি খেলতেন। মনীষাও চাইতেন কবাডি খেলতে। তবে তাঁর বাবা মেয়ের কুস্তির প্রতিভা দেখেছিলেন। ২০২২ সালে মনীষা এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার জন্য যেদিন উড়ে গেলেন সেদিনই তাঁর বাবা প্রয়াত হন। এবার সোনা জিতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন মনীষা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
