উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিরোধী শিবিরকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah)। এসআইআর (SIR) বা স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে সংসদে আলোচনার মুখোমুখি হওয়ার জন্য রাহুল গান্ধি (Rahul Gandhi) ও অখিলেশ যাদবকে সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। লখনউয়ে বিজেপির রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এই বিষয়ে আলোচনার জন্য ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং লুকোনোর মতো তাদের কিছুই নেই। এমনকি এই ইস্যুতে সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও পিছপা হবে না দল, এমনটাই মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে বিরোধীরা সংসদে কোনো গঠনমূলক আলোচনায় অংশ না নিয়ে কেবল হাঙ্গামা তৈরি করছে এবং সংসদীয় কার্যক্রম বানচাল করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
‘…রাহুল বাবা, আমি তোমাকে এবং অখিলেশ যাদবকে এখনই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি: ভারতীয় জনতা পার্টি সংসদে এই (সিইসি-এসআইআর) নিয়ে আলোচনা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের লুকানোর কিছু নেই। আসুন সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকি—কিন্তু সেখানে কথা বলার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। তারা সংসদকে কাজ করতে দিতে চায় না। পরিবর্তে তারা শুধু হাঙ্গামা করে।
নির্বাচনী পরাজয় মেনে নেওয়ার পরিবর্তে বিরোধীরা ক্রমাগত ভোট চুরির মিথ্যে অভিযোগ তুলছে বলে তোপ দাগেন শা। বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির ধারাবাহিক নির্বাচনী সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলা হেরে যাওয়ার পর যেমন খেলোয়াড়রা আরও বেশি করে অনুশীলন করে নিজেদের ত্রুটি শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করে, তেমনই বিরোধী দলগুলোরও উচিত আত্মবিশ্লেষণ করা। কিন্তু তা না করে রাহুল গান্ধি এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকরা আম্পায়ারকে চোর বলে দায় এড়াতে চাইছে। হরিয়ানায় সর্বাধিক আসন পেয়ে সরকার গঠন থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্র, বিহার, দিল্লি, পুদুচেরি এবং অসমে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলায় দলের রাজনৈতিক বিস্তার ও প্রভাবের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
আসন্ন ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পারদ এখন থেকেই চড়তে শুরু করেছে। এই রাজ্যে বিজেপি টানা তৃতীয়বারের মতো শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরবে বলে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন অমিত শা। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণকে ‘অঙ্গদের পা’-এর সঙ্গে তুলনা করে তিনি বুঝিয়ে দেন যে, এই ভিত সহজে নড়বড়ে হওয়ার নয়। মহাভারতের অর্জুনের মতো দলের প্রতিটি কর্মীকে শুধুমাত্র লক্ষ্যের দিকে চোখ রেখে পরিশ্রম করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। প্রসঙ্গত, ৪০৩ আসনের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় আগামীদিনে বিজেপি এবং সমাজবাদী পার্টির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে কংগ্রেসও নিজেদের হারানো জমিও ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

