আজাদ, মানিকচক: মানিকচকের (Manikchak) গোপালপুরে (Gopalpur) গত দুইদিনে ব্যাপক তাণ্ডব চালাল গঙ্গার (Ganges) ভাঙন। বর্তমানে নদীবাঁধ থেকে গঙ্গার দূরত্ব মাত্র ৪০ মিটার। স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন ভয়ানক পরিস্থিতি হওয়া সত্ত্বেও হেলদোল নেই প্রশাসনের। তড়িঘড়ি ভাঙন রোধের কাজেরও কোনও উদ্যোগ নেই। চরম আতঙ্কে ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দারা।
মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন যে, সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোপালপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সহবতটোলা ও এলাহিটোলা গ্রাম। আষাঢ় মাস শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে এই দুই গ্রামের নদীর পাড়ে। প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে চলছে ভাঙন। একসময় বাঁধ থেকে কয়েকশো মিটার দূরে ছিল নদী। বর্তমানে সেই দূরত্ব কমতে কমতে মাত্র ৪০ মিটার।
এবিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ সওদাগর আলি বলেন, ‘আমরা দেখেছি ভূতনি, রতুয়া, বৈষ্ণবনগরের ভাঙনকবলিত এলাকায় ভালো কাজ হচ্ছে। বঞ্চিত করা হচ্ছে শুধু গোপালপুরকে। এখানে দ্রুত কাজ শুরু না হলে ভয়াবহ রূপ নেবে গঙ্গা।’
সেই এলাকায় গঙ্গা নদীর পাড়ে পাট চাষের জমি রয়েছে। গঙ্গা এগিয়ে আসায় গোপালপুরের পাটচাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। অপরিপক্ব অবস্থায় পাট কাটতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। সহবতটোলার পাটচাষি সাবদুল শেখ বলেন, ‘আরও এক মাস জমিতে পাট থাকলে পাকত। কিন্তু এখন না কাটলে হয়তো সমস্তটাই কয়েকদিনের মধ্যে গঙ্গার গর্ভে তলিয়ে যাবে। তাই বাধ্য হয়ে পাট কাটতে হচ্ছে। তার ফলে দামও কিছুটা কম পাওয়া যাবে। কিন্তু কিছু করার নেই।’

