উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল (Trinamool Congress) কংগ্রেসে ভাঙন ও পদত্যাগের হিড়িক লেগেই রয়েছে। দল ক্ষমতা হারানোর পর একের পর এক নেতা যখন দলকে তোপ দেগে শাসকদল বিজেপির দিকে পা বাড়াচ্ছেন, ঠিক তখনই কলম ধরলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক ডামাডোলের এই আবহে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর নতুন কবিতা ‘গিরগিটি’ (Mamata Banerjee New Poem)। রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট ধারণা, স্বার্থের জন্য চটজলদি ভোলবদল করা দলের ‘বিদ্রোহী’ ও ‘সুবিধাবাদী’ নেতাদের কড়া বার্তা দিতেই এই কাব্যিক আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর্থিক লেনদেন ও ভোলবদলের রাজনীতিকে কটাক্ষ করে কবিতার ছত্রে ছত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফুটিয়ে তুলেছেন সমকালীন রাজনীতির নৈতিক অবক্ষয়কে। তিনি লিখেছেন:
“গিরগিটির থেকেও ভয়ঙ্কর/ বহুরূপী তো রঙ বদলায়/ তার রোজগারের পন্থায়/ কিন্তু যাঁদের ভোলবদল মাত্র কয়েক ঘণ্টায় হয়ে যায়। অন্য চরিত্র বদলের- নিজেদের আর্থিক লেনদেন ও স্বার্থপরতার স্বার্থে!”
তৃণমূল নেত্রীর এই ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, পুরোনো উপকার ও আদর্শ ভুলে যারা রাতারাতি নিজেদের লাভ ও পিঠ বাঁচাতে অবস্থান পরিবর্তন করছেন, তাঁদের তিনি রেয়াত করতে নারাজ। প্রশ্ন তুলেছেন মূল্যবোধ ও সততা নিয়ে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দলের অন্দরের এই বিশৃঙ্খলাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখছেন না, একে মানবিক মূল্যবোধ ও কৃতজ্ঞতার অভাব হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন। কবিতায় তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন:
“কতো নেবে চরিত্র বদলাতে?/ চরণতলে কতো উৎকোচ ধন?/ আর কত চাও?/ নিজেদের ভোল বদলাতে?/ রথের চাকাও চলে/ তোমাদের চাকাও চলবে।”
রাজনীতিকদের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় বা ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থে যারা নতুন শাসকদলের ‘চরণতলে’ আশ্রয় নিচ্ছেন, তাঁদের দিকেই মূলত এই ‘উৎকোচ’ ও ‘ভোলবদল’-এর তির ছোঁড়া হয়েছে। কিছুদিন আগেই রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যখন কলকাতা ও জেলাজুড়ে বেআইনি নির্মাণ ও ফুটপাত উচ্ছেদে উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ শুরু হয়েছিল, তখন তার বিরুদ্ধে ‘দখল’ নামক কবিতা লিখে সরব হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আর এবার দলের ভেতরের ‘শত্রু’দের চিহ্নিত করতে লিখলেন ‘গিরগিটি’।

ভোটের ফলপ্রকাশের পর বাড়ি থেসে সেভাবে বের হননি মমতা। একদিন কলকাতা হাইকোর্টে গেলেও দ্রুত ফের বাড়িতেই ফিরেছেন। বাড়িতে থেকেই বিভিন্ন বৈঠক করছেন। যা থেকে পরিস্কার ভোটে হারার পর যথেষ্ট চাপে তৃণমূল নেতৃত্ব। যেভাবে দলের অন্দরের কেচ্ছা প্রতিদিনি দলের কর্মীরাই সামনে নিয়ে আসছেন তাদে তিনি ও তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই যে মূল নিশানা তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কার্যত দলেনর নেতা-বিধায়কদের মধ্যেও খোদ দলনেত্রীকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। সেভাবে পথে দেখা যাচ্ছে না তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্বকে। এর উপরই দলের নেতাদের পদত্যাগ ও বিজেপি ঘনিষ্ঠতার খবর নিঃসন্দেহে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
