উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক ১০০ দিন আগে, প্রজাতন্ত্র দিবসের (77th Republic Day 2026) সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলের বার্তা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করল। একদিকে যেমন তিনি ভারতের বৈচিত্র্য ও বহুত্ববাদের জয়গান গাইলেন, তেমনই ‘সতর্কতা’র বুলি আউড়ে পরোক্ষভাবে কেন্দ্র এবং বিরোধী শিবিরকে কড়া বার্তা দিলেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর পোস্টে সংবিধানের প্রস্তাবনার (Preamble) মূল আদর্শ— ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য এবং সৌভ্রাতৃত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। বর্তমান মেরুকরণের রাজনীতির আবহে দাঁড়িয়ে তিনি নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন এই মৌলিক মূল্যবোধগুলির প্রতি পুনরায় অঙ্গীকারবদ্ধ হতে। তাঁর কথায়, বৈচিত্র্য এবং সামাজিক সম্প্রীতিই ভারতের আসল শক্তি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি ছিল তাঁর সতর্কবাণী। একটি পুরনো প্রবাদ উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, “স্বাধীনতার মূল্য হলো নিরবচ্ছিন্ন সতর্কতা।” তিনি আরও যোগ করেন, “আজকের দিনে আমাদের প্রজাতন্ত্র এবং সংবিধান আমাদের সকলের কাছ থেকে এই যৌথ সতর্কতাই দাবি করে।”
ভোটের ঠিক আগে এই ‘সতর্কতা’ আদতে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ঘর গোছানোর এবং সজাগ থাকার নির্দেশ।
বিভিন্ন ইস্যুতে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাত এবং এসআইআর (SIR) নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি সাধারণ মানুষকে ‘গণতান্ত্রিক ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
পোস্টের শেষে তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী, জওয়ান এবং সাধারণ নাগরিকদের স্যালুট জানিয়েছেন। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অভিবাদনের আড়ালেও লুকিয়ে রয়েছে এক রাজনৈতিক রণকৌশল। সাধারণ নাগরিকদের প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন আদতে তাঁদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে শামিল হওয়ারই এক প্রচ্ছন্ন ডাক।
সব মিলিয়ে, প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা স্পষ্ট করে দিল যে, আসন্ন নির্বাচনে ‘সংবিধান ও সম্প্রীতি রক্ষা’-ই হতে চলেছে তৃণমূলের প্রধান নির্বাচনী ইস্যু।
