উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বারুইপুরের (Baruipur) নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে রবিবার এক নজিরবিহীন উত্তাপ ছড়াল। একদিকে যখন বারুইপুরের রাজপথ জ্বলছে জনতার ক্ষোভে, অন্যদিকে কলকাতার কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়ি ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত ‘অবরোধের’ পরিবেশ।
রবিবার বারুইপুরে যাওয়ার কথা ছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু তিনি ঘর থেকে বেরোনোর আগেই পুলিশের ভারী ব্যারিকেডে ঘিরে ফেলা হয় তার কালীঘাটের বাসভবন। প্রচুর সশস্ত্র মহিলা জওয়ান এবং কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী এলাকাটি কার্যত সিল করে দেয়। একই সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেও পুলিশি তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সশরীরে পৌঁছাতে না পারলেও, ফোনে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান।
রবিবার সকাল থেকেই বারুইপুর যেন এক ‘জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি’। নিখোঁজ নাবালিকার দেহ পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়ার পর উত্তেজিত জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। অভিযুক্তদের একজনকে পিটিয়ে মারার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কুলপি রোডে দেহ আটকে বিক্ষোভ, ট্রেন অবরোধ এবং পুলিশের ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে যায় এলাকা।পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং সমস্ত রকম সরকারি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর ধীরে ধীরে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়।
বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিশেষ করে যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষকে নিয়ে শুরু হয়েছে নেটিজেনদের বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ফেসবুক পোস্ট এবং ফোন কলের মাধ্যমেই তিনি তার ‘সাংসদীয় দায়িত্ব’ সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বারুইপুরের নারকীয় কাণ্ডে দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে এখন পুরো রাজ্য একজোট। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গঠিত SIT এবং বারুইপুরের ঘটনার পরবর্তী মোড় কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

