Mamata Banerjee | অভিষেকের দায়িত্ব ভাগ কি বিদ্রোহীদের বার্তা? আদৌ কি বরফ গলবে?

Mamata Banerjee | অভিষেকের দায়িত্ব ভাগ কি বিদ্রোহীদের বার্তা? আদৌ কি বরফ গলবে?

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যে তৃণমূলের অন্দরে নির্বাচন পরবর্তী কাটাছেঁড়ায় চাঁদমারি তিনিই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যতই অভিষেককে উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানাতে দলীয় বৈঠকে বিধায়কদের বাধ্য করে থাকুন না কেন, অভিষেককে আর নেতা বলে মানছেন না দলের সাংসদ বিধায়কদের একটা বড় অংশ। বিধায়ক দলের ৬০ জন তো প্রকাশ্যেই পৃথক শিবির করে নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করেছেন। সংসদীয় দলেও ভাঙন অবশ্যম্ভাবী। এই পরিস্থিতিতে অভিষেকের উপর ফের আস্থা রাখলেও তাঁর দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন দলনেত্রী। অভিষেক জাতীয় সাধারণ সম্পাদক থাকলেও তাঁকে এখন থেকে সাহায্য করার জন্য  জন যুগ্ম জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে সাংসদ দোলা সেন ও ডেরেক ও ব্রায়েনকে। ফলে অভিষেকের কথাই যে দলীয় সংগঠনে আর শেষ কথা নয়, এদিনের রদবদলে তেমন ইঙ্গিতই মিলেছে।

শুক্রবার তৃণমূলে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাড়িতে হাইভোল্টেজ বৈঠকের পর দলের খোলনলচে বদলে ফেলা হয়েছে। যদিও দলের সেই বৈঠকে তৃণমূলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে মাত্র ৪ জন ও ১১ জন রাজ্য সভা সাংসদের মধ্যে মাত্র ২ জন উপস্থিত ছিল। বিধায়কদের মধ্যেও বৈঠকে যোগ দেন মাত্র ৬ জন। কিন্তু এই বৈঠক থেকেই সম্প্রতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন মমতা।দেখা গেছে, নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ এবং দলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের মূল নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থাকলেও, শেষ পর্যন্ত তাঁর উপর আস্থা বজায় রেখেছেন দলনেত্রী। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (All India Common Secretary) পদে অভিষেক বহাল থাকলেও, তাঁর একাধিপত্যে রাশ টানতে এবার দোলা সেন ও ডেরেক ও’ব্রায়েনকে সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলের মতে অভিষেকের ‘ডানা ছাঁটার’ সুক্ষ্ম কৌশল।

দলের প্রতিষ্ঠাতা লগ্ন থেকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্বে থাকা ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ নেতা সুব্রত বক্সীকে সরিয়ে এবার নতুন রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। পাশাপাশি, মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর ফিরহাদ হাকিমকে (ববি) দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এমনকি স্থান পাননি কর্মসমিতিতেও। উলুবেড়িয়ার সাংসদ সাজদা আহমেদ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতাবালা ঠাকুর এবং স্বাতী খন্দকারকে রাজ্য সহ-সভাপতি করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আনা হয়েছে অরূপ বিশ্বাস ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের।

যুব সংগঠনে সায়নী বহাল, ছাত্রে এল নতুন মুখ

যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ নির্বাচনের পর সেভাবে মাঠে না থাকলেও যুব তৃণমূল সভাপতির পদে তাঁর ওপর ভরসা রেখেছেন মমতা। তবে ছাত্র সংগঠনে বড় রদবদল ঘটিয়ে অভিষেক-ঘনিষ্ঠ তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে সরিয়ে সভানেত্রী করা হয়েছে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে। এছাড়া, আগেই বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় আইএনটিটিইউসি (INTTUC)-র রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে মলয় ঘটককে। দলে অভিষেকের দায়িত্ব ভাগকি আদৌ বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে খুশি করতে পারবে? রদবদলের পর থেকেই কিন্তু সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এদিন তৃণমূলের ক্ষুব্ধ নেতা তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যাঁর হাত ধরে পার্টি লাটে উঠল, তাঁর ওপর আস্থা রাখা মানে জনগণের প্রতি অনাস্থা দেখানো।” যদিও এনিয়ে প্রকাশ্যে কোনও হেলদোল নেই তৃণমূলের। তাঁরা পালটা ঋতব্রতের বিরোধী দলনেতা করার স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার হাইকোর্টে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *