উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: হুগলির (Hooghly) শ্রীরামপুরের মাহেশে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাকে কেন্দ্র করে চরমে উঠল আইনি জটিলতা (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Excessive Court docket) সিঙ্গল বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি দিলেও, তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে গেল রাজ্য। যে জমিতে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য প্রশাসন।
এদিন সকালে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য কালীঘাট তৃণমূলকে শ্রীরামপুরের মাহেশের জগন্নাথ দেব স্নানপিঁড়ি ময়দানে সভা করার অনুমতি দেন। নির্দেশ দেওয়া হয়, শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত এই কর্মসূচি করা যাবে এবং জমায়েত থাকতে হবে দু’হাজারের মধ্যে। পাশাপাশি, উসকানিমূলক মন্তব্য এড়াতে এবং পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়। তবে এই রায় সামনে আসার পরই তৈরি হয় বিতর্ক।
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করেন। রাজ্যের বক্তব্য, সভার অনুমতি নিয়ে তাদের আপত্তি নেই, কিন্তু যে মাঠে সভার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও মূলত ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। জমির মালিকপক্ষ সাফ জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য জমিটি দিতে ইচ্ছুক না। এমতাবস্থায় মালিকপক্ষ অনুমতি না দিলে পুলিশ কীভাবে বলপ্রয়োগ করবে, সেই প্রশ্ন তুলেই একক বেঞ্চের নির্দেশের অংশ পরিবর্তনের আর্জি জানিয়েছে রাজ্য।
উভয় পক্ষের সওয়াল শুনে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, রাজনৈতিক কর্মসূচি করার সময় সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রাখতে হবে। পাশাপাশি, বিকল্প কোনও জায়গার সন্ধান করার পরামর্শও দিয়েছে আদালত। আজ বিকেলেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। একদিকে সভার সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে, অন্যদিকে জমির মালিকানা ও আইনি জটে মমতার এই সভা ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

