উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলাতেই ছবিটা আমূল বদলে গেল। মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা পুলিশের এক নজিরবিহীন তৎপরতা প্রত্যক্ষ করল শহরবাসী। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়া থেকে শুরু করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata-Abhishek Safety eliminated) ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তর— সর্বত্রই শিথিল করা হলো নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি। যা নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়ির গলির মুখ থেকে ‘সিজারস ব্যারিকেড’ সরিয়ে নেয় পুলিশ। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই এলাকায় ছিল কড়া নজরদারি। পাড়ার প্রতিবেশীদেরও পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে যাতায়াত করতে হতো। পুলিশের একের পর এক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হতো তাঁদের। সোমবার রাত পর্যন্ত যে কড়াকড়ি বহাল ছিল, মঙ্গলবার সকালে তা যেন কর্পূরের মতো উবে গেল। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এলাকাটি এখন কার্যত ‘মুক্ত’।
একই ছবি ধরা পড়ল শেক্সপিয়র সরণি থানার ক্যামাক স্ট্রিটে। তৃণমূলের সংসদীয় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) অফিসের সামনে থেকে আচমকাই তুলে নেওয়া হলো পুলিশি প্রহরা। উল্লেখ্য, এই সেই এলাকা যেখানে গ্রুপ ডি চাকরিপ্রার্থীদের মিছিল করতে পর্যন্ত বাধা দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। এমনকি মিছিলের অনুমতির জন্য চাকরিপ্রার্থীদের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। আজ সেই হাই-প্রোফাইল চত্বর থেকে পুলিশ সরে যাওয়ায় নতুন কোনো প্রশাসনিক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।
লালবাজারের এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে অনেকেই দেখছেন ক্ষমতার পালাবদলের চূড়ান্ত প্রতিফলন। যে রাস্তাগুলোতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ছিল কার্যত নিষিদ্ধ, সেখানে এখন অবাধ যাতায়াত। তৃণমূল জমানার যে ‘নিরাপত্তা বলয়’ ছিল দলের শীর্ষ নেতাদের প্রধান পরিচয়, এক দিনেই তা ভেঙে পড়ায় প্রশ্ন উঠছে— তবে কি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি অন্য মেরুতে? কালীঘাট থেকে ক্যামাক স্ট্রিট, নিরাপত্তার এই ‘অন্তর্ধান’ এখন টক অফ দ্য টাউন।
