Malda Zilla Parishad | মালদা জেলা পরিষদে তৃণমূল বনাম তৃণমূল! সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থায় ১৭ সদস্য

Malda Zilla Parishad | মালদা জেলা পরিষদে তৃণমূল বনাম তৃণমূল! সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থায় ১৭ সদস্য

শিক্ষা
Spread the love


মালদা: আস্তিনের তাস লুকিয়ে রেখেই তৃণমূল পরিচালিত মালদা জেলা পরিষদের (Malda Zilla Parishad) বিরুদ্ধে অনাস্থা আনলেন দলেরই সদস্যরা। এমনটা যে ঘটতে পারে, সেব্যাপারে দিন দশেক আগেই উত্তরবঙ্গ সংবাদে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ঠিক সেইমতোই সোমবার দুপুরে সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ ও সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুলের বিরুদ্ধে তৃণমূলেরই ১৭ জন জেলা পরিষদ সদস্য মালদা ডিভিশনাল কমিশনারের দপ্তরে অনাস্থাপত্র দাখিল করলেন।

এবার আস্তিনের তাস লুকিয়ে রাখার কথা উঠছে কেন? কারণ, অনাস্থা আনলেই তো হল না, তা সফল করতে হবে তো! মালদা জেলা পরিষদের অনাস্থা নিয়ে আসার ম্যাজিক সংখ্যা হল ২২। অনাস্থা প্রমাণে সেই ম্যাজিক ফিগার থেকে এখনও পঁাচজন সদস্য কম রয়েছে বিক্ষুব্ধদের টিমে। যদিও মালদা জেলা পরিষদের দলনেতা সামসুল হকের দাবি, তাঁদের দিকে অন্তত ২৪ জন সদস্য রয়েছেন। এবার বাকিরা কি বিজেপির সদস্য? নাকি কংগ্রেসের? নাকি দলেরই আরও কেউ কেউ রয়েছে? জেলা পরিষদ সদস্য প্রতিভা সিংহ অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁদের কাছে তৃণমূলেরই ২৪ জন সদস্য রয়েছে। অনাস্থা প্রমাণের দিন তাঁদের সংখ্যা ম্যাজিক ফিগার থেকে অনেক বেশি হবে।

মালদা জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৪৩। ২০২৩ সালে জেলা পরিষদের নির্বাচনে তৃণমূল ৩৪টি আসন জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ও বোর্ড গঠন করে। পাঁচটি আসন পায় কংগ্রেস (Congress) এবং বিজেপি (BJP) পায় চারটি। এদিকে, রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সর্বত্রই তৃণমূল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। মালদা জেলা পরিষদও তার ব্যতিক্রম হতে পারল না। বিক্ষুব্ধদের দাবি, ‘আমরা ভালো তৃণমূল বা বিদ্রোহী তৃণমূল নয়। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। দিদি এই অনাস্থার ব্যাপারেও সব জানেন। তাঁর সম্মতি ছাড়া আমাদের এমন পদক্ষেপ কেন হবে?’

আবার মালদা জেলা পরিষদের কংগ্রেসের দলনেতা আবদুল হান্নান স্বীকার করে নিয়েছেন যে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবির তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আবদুল বলেন, ‘এনিয়ে আমরা এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। দল যা নির্দেশ দেবে সে মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ আর বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, ‘চোরেদের নিজেদের মধ্যে লড়াই চলছে। আমরা কোনও নির্বাচিত বোর্ড ভাঙায় অংশ নেব না।’

গতকাল মালদা জেলা পরিষদের তৃণমূলের দলনেতা সামসুল হকের নেতৃত্বে ১৭ জন জেলা পরিষদ সদস্য ডিভিশনাল কমিশনারের দপ্তরে আসেন। অনাস্থাপত্র দাখিল শেষে সামসুল বলেন, ‘আমরা তৃণমূলের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনছি না। সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে আনলাম। মূলত এই দুজনের নেতৃত্বে জেলা পরিষদে স্বজনপোষণ চলছিল।’ সামসুলের অভিযোগ, ‘আমাদের এলাকার উন্নয়নের জন্য আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছিল না। শুধু ওই দুজনের অনুগামীদের জন্য উন্নয়নমূলক কাজের দরজা খোলা ছিল। মানুষ আমাদের ভোটে জিতিয়ে জেলা পরিষদে পাঠিয়েছেন। তাদের জন্য যদি কাজ না করতে পারি তাহলে সদস্য থেকে লাভ কী?’

এদিকে, তাঁর বিরুদ্ধে দলেরই ১৭ জন সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাব প্রসঙ্গে মুখ খুলতে রাজি হননি সভাধিপতি। লিপিকার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, ‘আমার এসব জানা নেই।’ তবে সহকারী সভাধিপতি এটিএম রফিকুল ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই অনাস্থার পিছনে কলকাঠি নাড়ছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া অনাস্থা অসম্ভব।’ তিনি এই বিক্ষুব্ধ শিবির প্রসঙ্গে বলেন, ‘আজ তৃণমূলের ডামাডোল পরিস্থিতি চলছে। দলের খারাপ সময়ে এইসব নেতারা দিদির সঙ্গ ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে। আজ তাদের মনে হচ্ছে কাজ করতে পারছেন না। এক বছর আগে কেন মনে হয়নি? জনগন এদের উচিত শিক্ষা দেবে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *