অরিন্দম বাগ, মালদা: মালদা মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংকে রক্তের ভাঁড়ার শূন্য। চালু নেই মজুত রক্ত দেখানোর ডিসপ্লে বোর্ডও। এই পরিস্থিতিতে চরম সমস্যায় পড়েছেন রোগীদের পরিবারের লোকজন। ডোনার খুঁজতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে রোগীর পরিজনদের।
মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীর চাপ বরাবরই অনেক বেশি। মালদা জেলার পাশাপাশি ভিনজেলা, এমনকি ভিনরাজ্য থেকেও প্রতিদিন বহু মানুষ মালদা মেডিকেলে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন। খোদ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মুখেও সেকথা শোনা গিয়েছে। যেখানে প্রতিদিন এত মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসছেন, সেখানে রক্তের চাহিদাও বেশি থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু এত চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত রক্তের জোগান না থাকায় মালদা মেডিকেলের ব্লাড ব্যাংকে বেশিরভাগ সময়ই রক্ত মজুত থাকছে না। এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছে আমআদমি। ডোনার না নিয়ে গেলে রক্ত মিলছে না বলে অভিযোগ রোগীর পরিবারের লোকজনদের।
শনিবার দুপুরে মালদা মেডিকেলে ব্লাড ব্যাংকে ‘বি’ পজিটিভ রক্তের জন্য অপেক্ষা করছিলেন নুর আলম। হাতে বিশ্ব বাংলার লোগো যুক্ত ব্লাড ব্যাংকে রক্ত দেওয়ার কার্ড। নুর বলেন, ‘বন্ধুর স্ত্রীর ডেলিভারি রয়েছে। তাঁর জন্য বি পজিটিভ রক্ত প্রয়োজন। আমি নিজে ব্লাড ব্যাংকে একাধিকবার রক্ত দিয়েছি। সেই কার্ডও আমার কাছে রয়েছে। কিন্তু ব্লাড ব্যাংক থেকে বলছে, ওই গ্রুপের ডোনার না নিয়ে এলে রক্ত পাওয়া যাবে না। এখন ডোনারের খোঁজ চালাচ্ছি।’
রক্তের জন্য মালদা মেডিকেলে অপেক্ষা করছিলেন কুশমণ্ডির বাসিন্দা মুকলেসুর রহমান। তাঁর কথায়, ‘আমার আত্মীয় ১৩ দিন ধরে নার্সিংহোমে ভর্তি। আমার ও পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন। এখানে ডিসপ্লে বোর্ড চালু নেই। ফলে ব্লাড ব্যাংকে রক্ত মজুত রয়েছে কি না বুঝতে পারছি না। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্লাড ব্যাংকে রক্ত মজুত নেই। অন্য গ্রুপের রক্ত দিয়েও রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ব্লাড ব্যাংকেই দেখছি কারও এ পজিটিভ রক্ত লাগবে কি না। ওই রক্ত দিয়ে যদি ওদের থেকে ও পজিটিভ রক্ত পাওয়া যায়!’
মালদা মেডিকেল সুপার প্রসেনজিৎ বরের বক্তব্য, ‘মালদা মেডিকেলে ভিনজেলার পাশাপাশি ভিনরাজ্যের মানুষও পরিষেবা নিতে আসেন। সেক্ষেত্রে আমাদের রক্তের জোগানের থেকে চাহিদা অনেক বেশি হয়ে যায়। তাই অনেক সময়ই ব্লাড ব্যাংকে রক্ত মজুত থাকে না। সম্প্রতি ব্লাড ব্যাংক সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এই সময়ে বিদ্যুতের কাজ চলার কারণে আপাতত ডিসপ্লে বোর্ড চালু রাখা যাচ্ছে না। দ্রুত আমরা সেটা চালু করার ব্যবস্থা করছি।’
এই পরিস্থিতিতে রক্তদান শিবিরের আয়োজনে জোর দিচ্ছে মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। সেই মতো শনিবার মালদা শহরের আইএমএ ভবনে একটি রক্তদান শিবিরের আয়োজনও করে একটি বেসরকারি সংস্থা। সংস্থার তরফে আদর্শ মিশ্র বলেন, ‘এখন জেলায় তীব্র রক্তসংকট চলছে। এই পরিস্থিতিতে রক্তদান শিবিরটি করা হয়েছে। আজ আমাদের শিবিরে ৫১ জন রক্তদান করেছেন।’
