হরষিত সিংহ, মালদা: আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার প্রভাব এবার পড়তে চলেছে মালদার লিচু চাষে (Malda Litchi manufacturing)। এই মরশুমে মালদার লিচু বাগানগুলিতে মাত্র ৫৫ শতাংশ গাছে মুকুল ধরেছে। আর এতেই চিন্তিত জেলার লিচুচাষিদের একাংশ। বেশিরভাগ কৃষকই গাছের পরিচর্যা, সার কিংবা ভিটামিন দেওয়ার খরচ জোগান ঋণ নিয়ে। তাই ফলন কম হলে সকলকেই আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে। আবার ফলনের পরিমাণ কমলে দাম বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এখন বাগানে মুকুল ফুটেছে, আগামীদিনে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে আরও ফলন কমার আশঙ্কাও রয়েছে। এনিয়ে জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক সামন্ত লায়েক বলেন, ‘এই বছর প্রায় ৫৫ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের জন্য এমনটা হচ্ছে। এই বছর গত বছরের তুলনায় ফলন অনেক কম হতে পারে।’
মালদা জেলা উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে গিয়েছে, এই বছর মালদা (Malda) জেলায় ১৫৫৩ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। লিচু বাগান প্রায় ৫০ হেক্টর বেড়েছে। কালিয়াচকে (Kaliachak) সবথেকে বেশি লিচু চাষ হয়। কালিয়াচক-১ ব্লকে লিচু চাষের পরিমাণ ৬৮৪ হেক্টর, কালিয়াচক-২ ব্লকে ১৯০ হেক্টর এবং কালিয়াচক-৩ ব্লকে ৩০০ হেক্টর। এছাড়াও রতুয়া-১ ব্লকে ৮০ হেক্টর ও ইংরেজবাজার ব্লকে ৫৮ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়। অন্যান্য ব্লকেও সামান্য চাষ হয়ে থাকে। গত বছর মালদায় লিচুর ফলন ছিল ৮৯০০ মেট্রিক টন। মালদায় মূলত গুটি ও বোম্বাই প্রজাতির লিচুর চাষ হয়। এই বছর শীতের আগে জেলায় বৃষ্টি হয়েছিল। সেই প্রভাবই লিচু চাষে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
উদ্যানপালন দপ্তরের কর্তাদের মতে, শীতের আগে বৃষ্টি হওয়ায় লিচু গাছে নতুন পাতা গজিয়ে গিয়েছে। যার ফলে এই সময় আর মুকুল ধরছে না। এর জেরেই ফলন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এপ্রসঙ্গে এক লিচুচাষি আখতার আলি বললেন, ‘গতবছরও ভালো ফলন হয়নি। এই বছর তাই প্রথম থেকেই বাগানের পরিচর্যা শুরু করেছিলাম। তা-ও বাগানের প্রতিটি গাছে মুকুল আসেনি। এবার লোকসান হতে পারে।’ আবার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যে পরিমাণ মুকুল এসেছে তার পুরোটা দিয়ে ফলন হয় না, কিছু ঝরে যায়। আবার প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলেও লিচু নষ্ট হয়। তাই সবমিলিয়ে চিন্তায় সকলেই। ইতিমধ্যে গুটি প্রজাতির মুকুল থেকে ফল হতে শুরু করেছে। বোম্বাই প্রজাতির মুকুল থেকে ফল হতে আরও ১৫ দিন সময় লাগবে। এমন অবস্থায় ফলন ঠিক রাখতে নিয়মিত গাছে জল দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে উদ্যানপালন দপ্তর। এছাড়া ছোট ছোট ফল আসার পর সংবেদনশীল কীটনাশক স্প্রে করার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। এনিয়ে মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘মুকুল কম এসেছে। ফলনও স্বাভাবিকভাবেই কম হবে। তাই আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি গাছের ঠিকমতো পরিচর্যা করার।’
