সৌরভকুমার মিশ্র, হরিশ্চন্দ্রপুর: এই ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে ঠিক পৌঁছে যাব!
হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বাংলা-বিহার সীমানাবর্তী সাদলি চক অঞ্চলের প্রান্তিক গ্রাম ইংলিশ টিকাটুলির বাসিন্দা বছর সাতেকের আবদুল কাশিমের গল্পটা রূপকথার চেয়ে কোনও অংশে কম নয়। বাবা দিনমজুর। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। কিন্তু একরত্তির বুকের জেদ দমে না। ধানখেতে দৌড় অনুশীলন করে রাজ্য শিশু ক্রীড়া উৎসবে সুযোগ পেয়েছে আবদুল। ৮ জানুয়ারি সে দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাবড়ায় বাণীপুর ফিজিক্যাল এডুকেশন কলেজের ক্যাম্পাসে আয়োজিত ওই উৎসবে মালদা (Malda Information) জেলার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে।
মঙ্গলবার আবদুল হরিশ্চন্দ্রপুর (Harishchandrapur) জোনের হয়ে মালদা (Malda Information) জেলা প্রাথমিক শিশু ক্রীড়া উৎসবে প্রথম স্থান অর্জন করে। অবশ্য এর আগেও সে অঞ্চল সার্কেল ও জোনাল খেলায় ২০০ মিটার দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। আবদুল ইমামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির পড়ুয়া। তার বাবা শোনাব্দী পরিযায়ী শ্রমিক ছিলেন। তবে এখন ভিনরাজ্যে কাজ না পেয়ে এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা সুরাতন বিবি সংসার সামলান। অর্থের অভাবে ছেলেকে সেভাবে কোনও প্রশিক্ষণ দিতে পারেননি।
শোনাব্দী বলেন, ‘ছেলে ভালো দৌড়াতে পারে। এলাকায় মাঠের অভাব। ধানখেতে দৌড় প্র্যাকটিস করত।’ সুরাতনের কথায়, ‘ছেলেকে ঠিকমতো খেতেও দিতে পারি না। তা-ও খেলাধুলায় ভালো রেজাল্ট করেছে শুনে ভালো লাগছে।’
ইমামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস আবদুল রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করবে।’ হরিশ্চন্দ্রপুর দক্ষিণ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক তারক মণ্ডলের বক্তব্য, ‘সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যে গ্রামের ছেলেমেয়েরা যে অভাবনীয় ফল করে, আবদুল তার জলজ্যান্ত উদাহরণ।’
