গাজোল: আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে মালদা জেলার রাজনীতিতে ঘটে গেল এক বড়সড় ও তাৎপর্যপূর্ণ রদবদল (Malda Information )। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস (Tmc) ত্যাগ করে পুনরায় নিজের পুরনো দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে (Congress) প্রত্যাবর্তন করলেন যুবনেতা প্রসেনজিৎ দাস। রবিবার মালদা টাউন হলে আয়োজিত এক জমকালো ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি হাত শিবিরে ফিরে আসেন।
এই হাই-প্রোফাইল দলবদল কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ মালদা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশা খান চৌধুরী এবং হেভিওয়েট নেত্রী মৌসম বেনজির নূর। তাঁদের হাত থেকেই দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে প্রসেনজিৎ বাবু কংগ্রেসে ফেরেন। এই দলবদলকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রসেনজিৎ দাসের এই ‘ঘর ওয়াপসি’ মালদার নির্বাচনী সমীকরণকে এক নতুন মাত্রা দিতে পারে। ছাত্র ও যুব রাজনীতির হাত ধরেই মূলত কংগ্রেসে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি হয়েছিল। একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে তিনি অতীতে কংগ্রেসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি ঘাসফুল শিবিরে যোগদান করেন এবং নিজের দক্ষতার জোরে দ্রুত দলের প্রথম সারির মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর এই সাংগঠনিক দক্ষতার বড় পুরস্কার হিসেবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির গুরুদায়িত্ব অর্পণ করে। এমনকি গত বিধানসভা নির্বাচনে গাজোল কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন তিনি। যদিও সেবার পদ্ম শিবিরের প্রার্থীর কাছে সামান্য ব্যবধানে তাঁকে পরাস্ত হতে হয়েছিল।
তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন একনিষ্ঠভাবে কাজ করার পর প্রসেনজিৎ দাসের এই পুরনো দলে ফিরে আসা জেলা রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কংগ্রেস শিবিরের দাবি, প্রসেনজিৎ বাবুর এই প্রত্যাবর্তনে জেলার সাংগঠনিক ভিত্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত হবে এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ে দল এক নতুন গতি পাবে।

