মালদা: বিয়ের বয়স হয়েছিল মাত্র ১০ মাস। এরই মধ্যে এক বধূর রহস্য মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো মালদার চাঁচল থানা এলাকায়। ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই গৃহবধূকে বাপের বাড়ি থেকে ডেকে এনে মারধরের পর শ্বাসরোধ করে খুন করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে (Malda Housewife Homicide)। মৃত বধূর নাম রাধা দাস (২১)। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁচলের আলাদিপুর এলাকায়। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতার স্বামী সঞ্জয় মণ্ডলকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। গৃহবধূর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মেলায় এটি পরিকল্পিত খুন বলেই প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদার রতুয়ার চাঁদপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাধা দাসের সঙ্গে গত ১০ মাস আগে দেখাশোনা করে বিয়ে হয়েছিল চাঁচলের আলাদিপুরের সঞ্জয় মণ্ডলের। রাধার মায়ের দাবি, তাঁর মেয়ে বর্তমানে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামী সঞ্জয়ের সঙ্গে রাধার কারণ-অকারণে পারিবারিক গন্ডগোল ও অশান্তি লেগে থাকত।
বিবাদের মাঝেই গত বুধবার স্বামীকে নিয়ে রতুয়ায় নিজের বাপের বাড়িতে এসেছিলেন রাধা। পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার স্বামী সঞ্জয় একাই আলাদিপুরের নিজের বাড়িতে চলে যান। এরপর শনিবার জরুরি কাজের অজুহাত দিয়ে রাধাকে দ্রুত শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসতে বলে সঞ্জয়। স্বামীর কথামতো শনিবারই আলাদিপুরে ফেরেন রাধা। মৃতার মায়ের অভিযোগ:
“শনিবার সন্ধ্যায় মেয়ের সঙ্গে ফোনে আমার অনেকক্ষণ কথা হয়। তখন সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু সেই ফোন রাখার ঠিক আধঘণ্টা বাদেই আমাদের কাছে খবর আসে মেয়ে আর বেঁচে নেই! তাকে মশালদহ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তড়িঘড়ি হরিশ্চন্দ্রপুরের মশালদহ হাসপাতালে পৌঁছান মা পদ্মা দাস ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। কিন্তু সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন, হাসপাতাল চত্বরে শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্যই উপস্থিত নেই। বধূর নিথর দেহটি হাসপাতালে ফেলে রেখেই চম্পট দিয়েছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
হাসপাতালে রাধার দেহ দেখার পর পরিবারের সদস্যরা জানান, ২১ বছর বয়সী ওই তরুণীর শরীরে একাধিক আঘাতের দাগ রয়েছে। বিশেষ করে গলায় স্পষ্ট কালশিটে দাগ এবং পুরো দেহটি কাদামাখা অবস্থায় ছিল। কাদা মাখা শরীর ও আঘাতের ধরন দেখে পুলিশেরও প্রাথমিক অনুমান, মৃত্যুর আগে বাঁচার জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তীব্র ধস্তাধস্তি করেছিলেন ওই অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ। চাঁচল থানার পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার আসল কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে।
