অরিন্দম বাগ, মালদা: একটু বেশি সংখ্যক ভিউজের জন্য সাপ মেরে সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন এক তরুণ। এক মাসের মধ্যে সেই ভিডিওতে কয়েক মিলিয়ন ভিউও চলে আসে। কিন্তু বিপদ যে এভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, একথা তখন ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। পেলেন বৃহস্পতিবার, যখন বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করল বন দপ্তর। আব্বাস মোমিন নামে বছর একুশের ওই তরুণকে শুক্রবার মালদা জেলা আদালতে পেশ করে বন দপ্তর। তাঁর ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আব্বাসের বাড়ি ইংরেজবাজারের কাজিগ্রাম মোমিনপাড়া এলাকায়। বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মাসখানেক আগে এই গ্রামে একটি চন্দ্রবোড়া সাপ দেখা যায়। অভিযোগ, আব্বাস সেই সাপটিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারেন। তারপর সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে পোস্টও করেন। কিন্তু সেই সময় ওই ভিডিওতে তেমন ভিউ আসেনি। সম্প্রতি আব্বাস সেই ঘটনারই আরেকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। এবারে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ইতিমধ্যে সেই ভিডিওতে সাড়ে চার মিলিয়ন ভিউ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেই ভিডিও পৌঁছায় ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরোর হাতেও। এরপরেই সেই ভিডিও নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তের নির্দেশ পেয়েই আব্বাসের খোঁজ শুরু করে বন দপ্তর। বৃহস্পতিবার সকালে আব্বাসকে আটক করেন বন দপ্তরের আধিকারিকরা। জেরায় ভিডিওর সত্যতার কথা স্বীকার করেন আব্বাস। তারপরেই নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আব্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জেরায় বন দপ্তরের আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, সামাজিক মাধ্যমে ভিউজের জন্য নানা ধরনের ভিডিও পোস্ট করেন আব্বাস। আরও বেশি ভিউজ পাওয়ার জন্যই সাপ মারার ভিডিও পোস্ট করেছিলেন তিনি। বন দপ্তরের মালদা রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার সরস্বতী বিশ্বাস বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে সাপকে পিটিয়ে মারার একটি ভিডিও আমাদের নজরে আসে। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করি। আজ সকালে আমরা আব্বাসকে আটক করে জেরা শুরু করি। জেরায় ওই তরুণ স্বীকার করেন, তিনি মাসখানেক আগে একটি সাপকে হত্যা করেছেন। তারপরই বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে মামলা রুজু করে আমরা ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছি।’
অন্যদিকে, সাপ নিয়ে খেলা দেখানোর অপরাধে বৃহস্পতিবার দুপুরে রতুয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও তিন তরুণকে। ধৃতদের নাম আবু কালাম (৩৩), জাকির হোসেন (২৪), নেশ মহম্মদ (২৩)। ধৃতদের হেপাজত থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি স্যান্ড বোয়া প্রজাতির সাপ। এই ঘটনায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ধৃতদের আগামীকাল মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হবে।
এ প্রসঙ্গে রেঞ্জ অফিসার বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর আসে রতুয়া থানা এলাকায় সাপ নিয়ে অবৈধভাবে খেলা দেখানো হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় হানা দিয়ে একটি সাপ সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
