সৌরভ ঘোষ, মালদা: বৃষ্টির দেখা নেই। তার ওপর খটখটে আবহাওয়া। আমের মুকুল ঝরে পড়ার জন্য একেবারে আদর্শ পরিবেশ। হচ্ছেও তাই। স্বাভাবিকভাবেই মালদার (Malda) আমচাষিদের (Mango farmer) দিন কাটছে উদ্বেগের মধ্য দিয়ে।
বর্তমানে জেলার সর্বত্রই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি। মার্চের শেষ সপ্তাহেই তাপমাত্রা ৩৭-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। এই গরম আমের মুকুলের জন্য মোটেও সুখকর নয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের চাষিদের আশঙ্কা, কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলে আমের মুকুল ঝরে গিয়ে ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গত বছর মালদায় মাত্র ২.২০ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়েছিল, যা স্বাভাবিক উৎপাদনের তুলনায় অনেক কম। এবছর ফেব্রুয়ারি থেকেই আশার আলো দেখছিলেন আমচাষিরা। উদ্যানপালন দপ্তরের পূর্বাভাস, এবছর প্রায় ৩.৫০ লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পূর্বাভাস নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আমচাষি রবীন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘এবছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। ভালো ফলনের আশা করেছিলাম। কিন্তু গরম আর অনাবৃষ্টির কারণে মুকুল শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।’
সমান উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ইংলিশবাজারের আমচাষি শেখ মফিজউদ্দিনের। জানান, ‘গত বছর আমের ফলন কম হওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবছর গাছে প্রচুর মুকুল ধরেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত একফোঁটাও বৃষ্টি হয়নি। আমরা সেচ দিয়ে চেষ্টা করছি, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।’
জেলার উদ্যানপালন দপ্তরের কর্মকর্তা সামন্ত লায়েক জানান, ‘এবছর আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশি। তবে বর্তমান তাপপ্রবাহ ও অনাবৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে ফলন বিপর্যস্ত হতে পারে। তারা যেন নিয়মিত সেচ দেন এবং গাছের চারপাশে জল ধরে রাখার ব্যবস্থা করেন। প্রয়োজনে ফসলে বিশেষ ধরনের স্প্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে, যাতে গরমের প্রভাব কিছুটা কমানো যায়।’
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন চাষিরা। বৃষ্টি হলে আমের মুকুল রক্ষা পাবে। চাষিরাও আশানুরূপ ফলন পাবেন। বৃষ্টি না হলে তাঁদের বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
