হরষিত সিংহ, মালদা: লিচুকে বলা হয় সেল্ফ লাইফটাইম ক্যাপাসিটি ফল। অর্থাৎ এই ফল পাকা অবস্থায় গাছ থেকে পাড়ার পর বেশি সময় থাকে না। দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই খুব অল্প সময়েই লিচু বাজারজাত করতে হয়। এমন ফল দূরদূরান্তে পাঠানো কিছুটা হলেও কষ্টসাধ্য। এই ফলের জন্য বিখ্যাত মালদা (Malda) জেলা। জেলায় প্রতিবছর গড়ে ৮-৯ মেট্রিক টন লিচুর উৎপাদন হচ্ছে। লিচুচাষি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে লিচু (Litchi) রপ্তানির দাবি জানিয়ে আসছেন। একাধিক আলোচনা, মিটিং হলেও তা অবশ্য বাস্তবায়িত হয়নি। স্থানীয় বাজার ছাড়া প্রতিবেশী কয়েকটি রাজ্যে মালদার লিচু রপ্তানি হচ্ছে। এতে কৃষক বা ব্যবসায়ীদের তেমন মুনাফা হচ্ছে না। কালিয়াচকের উত্তর দরিয়াপুরের লিচুচাষি মহম্মদ সেনাউল্লা বলেন, ‘বিদেশে লিচু রপ্তানি শুরু হলে আমরা উপকৃত হব। লিচু চাষে আমাদের আগ্রহ আরও বাড়বে। রোজগার বাড়বে। একাধিক মিটিং হয়েছে। আমরা মিটিংয়ের দাবিও জানাচ্ছি। কিন্তু কিছুই হচ্ছে না।’ যদিও মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের বক্তব্য, ‘বিদেশে লিচু রপ্তানির জন্য কেউ প্রস্তাব দিলে আমরা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্যই উদ্যোগ নেব।’
মালদা জেলার বোম্বাই প্রজাতির লিচুর গুণগত মান সব থেকে ভালো। এই লিচুর চাহিদাও বেশি বাজারে। কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকে সব থেকে বেশি বোম্বাই প্রজাতির লিচু চাষ হয়। এখনও জেলার উৎপাদিত লিচু বিদেশে রপ্তানির পরিকাঠামো তৈরি না হওয়ায় হতাশ সকলেই। রপ্তানিকারকদের একাংশের দাবি, মালদার লিচু বিদেশে রপ্তানি করতে হলে আধুনিক পরিকাঠামো প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকারের অ্যাপেডার সংস্থার মাধ্যমেই এই পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে। লিচু রপ্তানির জন্য বাগান থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ফ্রিজিং কনটেনার ক্যারিভ্যান প্রয়োজন। সঙ্গে গ্রিন চ্যানেল কার্গো বুকিং এয়ারপোর্ট প্রয়োজন। তবেই লিচু বিদেশে পাঠানো সম্ভব। তবে মালদাকে লিচু এক্সপোর্ট জোন ঘোষণা করলেও এখনও এই সব পরিকাঠামো তৈরি হয়নি। ফলে লিচু বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।’
মালদা ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘সেল্ফ লাইফটাইম ফল লিচু। রপ্তানির জন্য পরিকাঠামো নেই মালদায়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে লিচু এক্সপোর্ট জোন ঘোষণা হলেও এখনও তৈরি পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। বিদেশ লিচু রপ্তানি করতে পারে বৈদেশিক মুদ্রার আয় হবে দেশের। কৃষক থেকে ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন।’
তবে বর্তমানে লিচু চাষের ক্ষেত্রেও দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রকম রাসায়নিকের ব্যবহার। এমনকি লিচুতে বিশেষ রং করা হচ্ছে। এই লিচু শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। মালদা উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিক সামন্ত লাইক বলেন, ‘আম যে প্রজাতির ফল, লিচু সেই প্রজাতির ফল নয়। আম পাকার সময় হলে ঘরে রেখে পাকানো যায়। কিন্তু লিচুর ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। গাছেই পাকতে হবে লিচুকে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লিচুতে রং ব্যবহার করছেন। এটা ক্ষতিকর। বাইরেও এই লিচুর কদর করে না। এমনকি রং ব্যবহার করা লিচু বাইরের বিক্রি পর্যন্ত হবে না।’
