অরিন্দম বাগ, মালদা: তিন বছর বয়সে খেলতে গিয়ে মাথায় চোট লাগে এক নাবালকের। শুরুতে তেমন কিছু সমস্যা দেখা না দিলেও তার কয়েক বছর পর থেকেই প্রভাব পড়তে শুরু করে। ওই নাবালকের যখন বয়স ছয় তখন থেকে বাড়ির সদস্যরা তার ব্যবহার বা আচরণে কিছুটা অসংগতি লক্ষ করেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে মানসিক ভারসাম্য হারাতে শুরু করে সে। বর্তমানে তার মানসিক পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। মালদার (Malda) ইংরেজবাজার (English Bazar) পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সরস্বতীপল্লি এলাকার ঘটনা।
বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেই বেঁধে রাখতেন ওই নাবালককে। প্রশাসনের কাছে সেই খবর পৌঁছাতেই তার বাড়িতে আসেন স্থানীয় কাউন্সিলার সুজিত সাহা ও চাইল্ডলাইন। সোমবার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সহায়তায় ওই নাবালককে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মনোরোগ বিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর চিকিৎসকরা তাকে বহরমপুর মেন্টাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বর্তমানে ওই নাবালকের বয়স ১১ বছর। তার বাবা ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। সংসারের অভাব মেটাতে তার মা কখনও গৃহ পরিচারিকা আবার কখনও জমিতে শ্রমিকের কাজ করেন। ওই দম্পতির তিন ছেলে। দুই ছেলে স্বাভাবিক থাকলেও মেজো ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন। যখন-তখন বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া, অচেনা কাউকে দেখলে ঢিল ছোড়া, পাথর ছুড়ে জানলার কাচ ভাঙার মতো অভিযোগও উঠেছে ওই নাবালকের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় কাউন্সিলার সুজিত সাহার বক্তব্য, ‘আমাদের কাছে খবর আসে সরস্বতীপল্লি এলাকার এক মানসিক ভারসাম্যহীন নাবালককে বাড়ির লোকজন সামলাতে না পেরে বাড়িতে বেঁধে রাখছেন। তৎক্ষণাৎ আমরা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করি। চাইল্ডলাইনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এদিন ওই নাবালককে মালদা মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছিলাম। চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষার পর বহরমপুর মেন্টাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।’
চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান অম্বরীশ বর্মনের কথায়, ‘আমাদের কাছে খবর এসেছিল মানসিক ভারসাম্যহীন এক নাবালককে বাড়িতে বেঁধে রাখা হচ্ছে। যা শিশুর অধিকারের লঙ্ঘন। যদিও এদিন আমরা গিয়ে তাকে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পাইনি। আমরা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। জেলা শাসকের তদারকিতে মঙ্গলবার নাবালককে বহরমপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা দেখে জেলা প্রশাসন থেকে গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’
