কল্লোল মজুমদার, মালদা: দুর্গাপুজোর বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই মালদা শহরের ফরেন লিকার অফ শপ সহ বারগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা গিয়েছে। আর পুজোর ক’টা দিন উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গিয়েছে। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, পুজোর মরশুমে শুধুমাত্র মালদা জেলায় (Malda) সরকারিভাবে সাড়ে ২৭ কোটি টাকারও বেশি মদ বিক্রি হয়েছে। পুজোর মরশুম বলতে বিশ্বকর্মাপুজো থেকে শুরু করে নবমী পর্যন্ত। আর পুজোর তিনদিন ধরলে মদ বিক্রির পরিমাণ ৭ কোটি টাকার বেশি। এই হিসেব সরকারি। আর বেসরকারি হিসাব ধরলে টাকার অঙ্কটা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন মদ বিক্রেতারা। জেলার মদ ব্যবসায়ীদের মতে, এবার বেশি বিক্রির কারণ অনুকূল আবহাওয়া। সাধারণ দিনে মালদা জেলায় প্রতিদিন দেড় কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়।
মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল সাহার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালদা জেলায় কমবেশি ১৫০টি শপ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘পুজোর মরশুমে গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি মদ বিক্রি হয়েছে।’
পুজোর এই সময়ে জেলার প্রায় প্রতিটি প্রান্তে এবং পাড়ায় পাড়ায় পানের দোকান, মুদিখানা এবং কিছু বাড়ি থেকেও লুকিয়ে মদ বিক্রি হয় অনেক বেশি দামে। পুজোর সময় অতিরিক্ত আয়ের আশায় দোকানে এবং বাড়িতে আগে থেকেই মদ কিনে মজুত করে রাখা হয়, সেই মদ অতিরিক্ত দামে স্থানীয় মানুষের কাছে বিক্রি হয়। সেসব বিক্রির হিসেব অবশ্য সরকারি খাতায় উঠে না।
মালদার একটি ফরেন লিকার অফ শপের মালিক দেবু সাহার কথায়, ‘নিয়ম মেনে পুজোর সময় শুধুমাত্র বিজয়া দশমীর দিন জেলার সমস্ত মদের দোকান বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাছাড়াও ওই দিনটি ছিল গান্ধিজির জন্মদিন। তবুও অন্যবারের তুলনায় এবার ভালো বিক্রি হয়েছে।’
পঞ্চমী বা ষষ্ঠীর দিন থেকেই এবার মদ কেনার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। গভীর রাত পর্যন্ত ছিল ক্রেতাদের ভিড়। এক ক্রেতার কথায়, ‘পুজোর চারদিনের জন্য চার রকম ব্র্যান্ডের বিলিতি মদ আগের থেকেই কিনে রেখেছি। প্রতিবছরই পুজোর সময় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মদ্যপানের আসর বসে। পুজোর দিনগুলি আমরা এভাবেই উদযাপন করি।’
একটি বিদেশি মদের দোকানের বিক্রেতার মতে, এই বছর প্রথম পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদেরও দোকানে এসে লাইন দিতে দেখা গিয়েছে। পানশালাগুলিতেও মহিলাদের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
