মালদা: মালদা শহরে কাজের খোঁজ করছিল দুই কিশোরী। লোকজনের সন্দেহ হওয়ায় পরিচয় জানতে চায়। তারা জানায়, পড়াশোনা করবে বলে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে বিহারের বাসিন্দা সেই দুই বোনকে উদ্ধার করা হয়।
তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বিহারের কাটিহারে তাদের বাড়ি। দুই বোন পড়তে চাওয়ার কথা বলতেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন বাবা। দুই মেয়ের অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় মৎস্যজীবী বাবা ব্যাপক মারধর করেন তাদের। বাবার কথা না শোনায় মারধর করেন মা-ও। অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে মালদায় চলে আসে ওই দুই কিশোরী। শহরের একটি হোটেলে কাজ খুঁজতে যায়। সেই হোটেল মালিককে সব কথা খুলে বলে তারা। ওই হোটেল মালিক দুই বোনকে নিজের হোটেলে খাইয়েদাইয়ে খবর দেন ইংরেজবাজার থানায়। পরে পুলিশ এসে ওই দুই কিশোরীকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় থানায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে।
নাবালিকাদের অভিযোগ, বাবা তাদের বিনা কারণেই মারধর করেন। তাই বাড়ি ফিরে যেতে নারাজ ওরা।
সেই হোটেল মালিক শিবু স্বর্ণকার দাবি করেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে দুটি মেয়ে আমার দোকানে এসে কাজের সন্ধান করতে থাকে। জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ওরা একজন সপ্তম শ্রেণিতে একজন অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। ওদের বাবা কাজ করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু ওরা পড়াশোনা করতে চায়। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ওরা পালিয়ে এসেছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি পুলিশকে খবর দিই।’
