সিদ্ধার্থশংকর সরকার, পুরাতন মালদা: মালদা (Malda) জেলায় ফুলের বাজারকে স্বনির্ভর করে তুলতে এবং চাষিদের আয় বাড়াতে এবার নতুন দিশা দেখাচ্ছে জেলা উদ্যানপালন দপ্তর। বাণিজ্যিকভাবে জারবেরা ও গ্ল্যাডিয়োলাসের মতো অর্থকরী ফুলের চাষ শুরু করার জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এতদিন মূলত গাঁদা ফুলের চাষ হলেও, জেলার চাহিদা মেটাতে এ ধরনের ফুলগুলি ভিনজেলা থেকে আমদানি করতে হত। এবার সেই নির্ভরতা কমাতে এবং স্থানীয় চাষিদের উৎসাহিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করছে উদ্যানপালন দপ্তর। উদ্যানপালন দপ্তরের আধিকারিকদের বক্তব্য, মালদার মাটি ও আবহাওয়া গ্ল্যাডিয়োলাস এবং জারবেরা চাষের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার পরিবেশও এ ধরনের ফুল চাষের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা সৃষ্টি করবে না। দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর সামন্ত লায়ক বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি জারবেরা ও গ্ল্যাডিয়োলাসের মতো ফুল বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। মালদার বাজারে এ ধরনের ফুলের চাহিদা খুব ভালো রয়েছে, বিশেষত বিয়ে, পুজো এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে ফুলগুলি অপরিহার্য। আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি যে জেলায় এই ফুল চাষ করা সম্ভব। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করব।’
আমের জন্য বিখ্যাত মালদায় এবার জারবেরা (Garbera) এবং গ্ল্যাডিয়োলাসের (Gladiolus) মতো ফুলের চাষের উদ্যোগ। উদ্যানপালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু কৃষক নিজেদের উদ্যোগে গাঁদা ও জবা ফুলের বাগানে ছোট আকারে এক-দুই লাইনে এই ফুল চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। এই সীমিত সাফল্যকে আরও ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে দিতে এখন থেকেই ফুলচাষিদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এজন্য ফুলের চারা ও বীজ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ সহ চাষ সংক্রান্ত বিষয়ে যাবতীয় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। জারবেরা এবং গ্ল্যাডিয়োলাস অর্থকরী ফুল। গ্ল্যাডিয়োলাস কাটিং ফ্লাওয়ার বা স্টিক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এর বাজারদর ভালো। অন্যদিকে, জারবেরা তার দীর্ঘ স্থায়িত্ব এবং আকর্ষণীয় রংয়ের জন্য সব অনুষ্ঠানেই খুব জনপ্রিয়। জেলায় সফলভাবে এই চাষ শুরু হলে ফুলচাষিদের আয় বহুগুণ বাড়বে এবং জেলার অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পুরাতন মালদার মুচিয়ার এক গাঁদা ফুলচাষি বিশ্বজিৎ বিশ্বাস বলছেন, ‘আমরা বর্তমানে নিজেদের উদ্যোগে লাভজনকভাবে গাঁদা চাষ করছি। জারবেরা বা গ্ল্যাডিয়োলাস চাষের পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ পাই, তবে আমরা যে কোনও ফুল চাষ করতে সক্ষম। এ ধরনের ফুল চাষ করার সুযোগ পেলে আমাদের আয়ও বাড়বে।’
