Malda | কালিয়াচক থেকে মানিকচক, মালদার মাদক মানচিত্রে জলপথের ‘সেফ করিডর’

Malda | কালিয়াচক থেকে মানিকচক, মালদার মাদক মানচিত্রে জলপথের ‘সেফ করিডর’

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


আজাদ, মানিকচক: মালদা জেলার (Malda) মাদক মানচিত্রে কি বিবর্তন হচ্ছে? সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনার পর ব্রাউন সুগারের কারবার নিয়ে উদ্বেগজনক কিছু তথ্য উঠে আসছে। দীর্ঘকাল ধরে কালিয়াচকই পরিচিত ছিল ব্রাউন সুগার উৎপাদনের ‘এপিসেন্টার’ বা মূল কেন্দ্র হিসেবে। বর্তমানে সেই অশুভ সিন্ডিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে মানিকচকের নিভৃত জলপথ। তদন্তে উঠে আসছে যে, সড়ক ও আকাশপথের পাশাপাশি পুলিশের কড়া নজরদারি এড়াতে মাদক মাফিয়ারা এখন গঙ্গা ও ফুলহর নদীর জলপথকেই ‘সেফ করিডর’ বা নিরাপদ পথ হিসেবে ব্যবহার করছে।

আর মাদক মাফিয়াদের এই সক্রিয়তায় একসময়ের শান্ত মানিকচক এখন কালিয়াচকের গোপন মাদক কারখানাগুলোতে কাঁচামাল সরবরাহের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। মূলত বিহার ও ঝাড়খণ্ডের সীমানা ঘেঁষা এই অঞ্চলটির ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছে মাদক মাফিয়ারা।

মণিপুর থেকে আসা ব্রাউন সুগারের প্রধান ‘কাঁচামাল’ এখন শিলিগুড়ি হয়ে বিহারের পূর্ণিয়া ও কাটিহারে পৌঁছাচ্ছে। সেই কাজে সড়কপথের ঝুঁকি এড়াতে পাচারকারীরা বেছে নিচ্ছে নদীপথ। বিহারের সীমানায় নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পুলিশি নাকা চেকিং থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের জলসীমায় টহলদারির অভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। এপারের গঙ্গাতীরে বড় বড় ফেরিঘাটে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পুলিশি পাহারা মাঝেমধ্যে দেখা যায়। সেই নজরদারি এড়াতে মাদক মাফিয়ারা এখন ব্যবহার করছে গঙ্গা ও ফুলহরের অখ্যাত সব ছোট ছোট ঘাট। এই নদীপথ ব্যবহার করেই অতি সহজে কাঁচামাল পৌঁছে যাচ্ছে কালিয়াচকের অন্দরমহলে। সেখানে কলকাতা থেকে নিয়ে আসা সাদা রংয়ের একপ্রকার পাউডার মিশিয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তৈরি হচ্ছে ব্রাউন সুগার। বানানোর পর এই মাদক আবার একই জলপথ ধরে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় পাচার হয়ে যাচ্ছে।

মানিকচকের জনবসতিহীন চর এলাকাগুলো এখন মাফিয়াদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। যেখান থেকে অনায়াসেই মাদক ও কাঁচামাল হাতবদল হচ্ছে। পুলিশি অভিযানে অনেক বড় মাফিয়া গা-ঢাকা দিলেও, জলপথের এই সক্রিয় নেটওয়ার্কটি এখনও সম্পূর্ণ ভাঙা সম্ভব হয়নি। অভিজ্ঞ মহলের মতে, যতক্ষণ না গঙ্গা ও ফুলহরের প্রতিটি ছোট ঘাটে স্থায়ী পুলিশি পিকেট বা স্পিডবোট টহলদারি শুরু হচ্ছে, ততক্ষণ কালিয়াচক ও মানিকচকের এই আঁতাত ভাঙা প্রায় অসম্ভব।

মাত্র পাঁচ-ছয় বছর আগেও মালদার কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগরের চর এলাকায় পুলিশের পরোক্ষ মদতে বা গোপনে বিঘার পর বিঘা জমিতে পপি চাষ হত। সূর্য ওঠার আগে পপি ফুলের আঠা সংগ্রহ করে স্থানীয়ভাবেই তৈরি হত ‘ক্রুড’ বা ব্রাউন সুগারের কাঁচামাল। তবে গত কয়েক বছরে প্রশাসনের লাগাতার ধরপাকড় ও কড়াকড়িতে সেই চাষ এখন মালদা জেলাজুড়ে প্রায় বন্ধ। মাফিয়ারা এখন আন্তঃরাজ্য সাপ্লাই লাইনের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। মালদার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জেলাকে ‘মাদকশূন্য’ করার ডাক দিয়ে আকাশপথ ও সড়কপথে বড়সড়ো সাফল্য পেয়েছেন। জলপথের এই অদৃশ্য ছিদ্রগুলো আটকানো এখনও প্রশাসনের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় থানা ও জেলা পুলিশ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *