বৈষ্ণবনগর: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বাবার নাম সংক্রান্ত তথ্যগত ত্রুটিকে কেন্দ্র করে মানসিক চাপে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) (BLA)-র মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। মালদার (Malda) বৈষ্ণবনগরের (Baisnabnagar) ঘটনা। মৃতের নাম বরকত শেখ (৪৫)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালিয়াচক-৩ বিডিও অফিস চত্বর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত চরম উত্তেজনা ছড়ায়। এনিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব ও মৃতের পরিবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের গাফিলতিকেই দায়ী করেছে।
চকসেহেরদি গ্রামের বাসিন্দা বরকত শেখের পরিবারের দাবি, বরকতের বাবার প্রকৃত নাম রশুল শেখ। কিন্তু এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত কাজে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বাবার নামের জায়গায় শুধুমাত্র ‘শেখ’ লেখা ছিল। এই তথ্যগত ত্রুটি নজরে আসতেই আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেন বরকত। তাঁর আশঙ্কা ছিল, এই ভুলের কারণে ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে যেতে পারে।
মৃতের আত্মীয় সামাউন শেখ জানান, ওয়েবসাইটে এই ভুল দেখার পর থেকেই বরকত মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। বিষয়টি সংশোধনের আশায় শুক্রবার কালিয়াচক–৩ বিডিও অফিসে যান তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়েও কোনও আশ্বাস মেলেনি বলে অভিযোগ। অফিস থেকে বেরিয়ে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বরকত। সন্ধ্যা প্রায় ৭টা নাগাদ বিডিও অফিসের বাইরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন বৈষ্ণবনগরের বিধায়ক চন্দনা সরকার। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। বিধায়ক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে সাধারণ মানুষ আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নামের সামান্য ভুল নিয়েই মানুষ ভাবছেন, ভোটাধিকার হারাবে কি না। বরকত শেখ সেই আতঙ্কেরই শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন। বিডিও অফিসে গিয়েও তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়নি। ভোটের আগে এ ধরনের গাফিলতির সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনের।’ তিনি আরও জানান, এই ঘটনার বিষয়ে দলের উচ্চ নেতৃত্বকে জানানো হবে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলা হবে।
এদিকে, স্থানীয় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য সামিউল শেখ বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নামের ছোটখাটো ত্রুটির কারণে মানুষ চূড়ান্ত মানসিক চাপে ভুগছেন। বরকত আমাদের দলের একজন নিষ্ঠাবান কর্মী ছিলেন। সংশোধনের জন্য প্রশাসনের দ্বারে গিয়েও তিনি কোনও সুরাহা পেলেন না। এই ব্যবস্থার ফলেই আজ একজন কর্মীর মৃত্যু হলো।’ ঘটনার জেরে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যদিও এই বিষয়ে কালিয়াচক-৩-এর বিডিও সুকান্ত শিকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
