কল্লোল মজুমদার, মালদা: কলকাতা থেকে সড়কপথে মালদা শহরে প্রবেশের মুখে গৌড়কন্যা বাস টার্মিনাসের পাশে রয়েছে ইংরেজবাজার নিয়ন্ত্রিত বাজার। যাকে মানুষজন আম বাজার বলেই চেনে। দিনভর এই বাজারে নানা ধরনের ফল, সবজির পাইকারি কেনাবেচা চলে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সন্ধে হলেই মালদা শহরের এই বাজার চত্বর চলে যাচ্ছে সমাজবিরোধীদের দখলে। রাত হলেই ওই এলাকায় বসছে মদ, জুয়ার আসর। এমন পরিস্থিতিতে বাজার চত্বরে পুলিশ ফাঁড়ি গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
গত বছর মালদা শহরের দক্ষিণ বালুচর এলাকার এক কিশোরী সৃষ্টি কেশরী বাড়ি থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। দুইদিন পর সৃষ্টির মৃতদেহ ধড় ও মুণ্ডু আলাদা অবস্থায় বাজার চত্বর থেকে উদ্ধার হয়। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় ওই কিশোরীর এক আত্মীয়কে।
পুলিশের জেরায় সৃষ্টির ওই আত্মীয় স্বীকার করে নেয়, সৃষ্টিকে এই বাজার চত্বরে নিয়ে এসে খুন করা হয়। খুনে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও ওই এলাকা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে আবার দু’দিন আগে চোর সন্দেহে মালদা শহরের এক তরুণ সামজান শেখকে ওই বাজারের মধ্যেই গণপ্রহার দিয়ে খুন করা হয়। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় তিনজনকে। এছাড়াও মাঝেমধ্যেই পুলিশ জাল টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র, মাদক বাজেয়াপ্ত করছে ওই এলাকা থেকে।
এই ঘটনাগুলিই প্রমাণ করে ইংরেজবাজার নিয়ন্ত্রিত বাজার চত্বর যেন ক্রমেই অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হচ্ছে। এমনই অভিযোগ মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের জেলা সভাপতি উজ্জ্বল সাহার। তাঁর কথায়, ‘একথা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই যে রাত হলেই ওই এলাকায় নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজকর্ম হচ্ছে। বীরেন্দ্রকুমার মৈত্র কৃষি বিপণন মন্ত্রী থাকাকালীন যে পুলিশ ফঁাড়ি তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন, তা এখনও হল না। সেই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। ডিসেম্বরের প্রথমদিকে মুখ্যমন্ত্রীর মালদা জেলায় আসার কথা রয়েছে। আমরা সংগঠনের তরফে দাবি করব, যাতে আম বাজার চত্বরে একটি পুলিশ ফাঁড়ি গড়ে তোলা হয়।’
একই দাবি আম বাজারের ফল ব্যবসায়ী নব সাহার। তাঁর বক্তব্য, ‘রাত হলেই এই বাজার এলাকা পুরোপুরি শুনসান হয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের স্বার্থে এলাকায় সবসময় একটি পুলিশ পিকেট কিংবা স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি গড়ে তোলা উচিত। তাতে ব্যবসায়ী সহ ক্রেতা-বিক্রেতারা নিরাপদে থাকতে পারবেন।’
বাম আমলে যখন মালদার বীরেন্দ্রকুমার মৈত্র রাজ্যের কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন, তখন ওই বাজারটি গড়ে ওঠে। সেই সময় এই বাজার চত্বরে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি গড়ে তোলার কথা ছিল। তারপর রাজ্য রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল হয়। বামেদের সরিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু তারপরেও এখনও পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি প্রস্তাবিত পুলিশ ফাঁড়ি। আর এমন পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজ করে চলেছে এই বাজার চত্বরে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে এবিষয়ে ইংরেজবাজার নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির তরফে কেউ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
