Malda | মালদার ‘গালিচায়’ শুধুই শূন্যতা, বাজেটে উপেক্ষিত লক্ষাধিক কার্পেটশিল্পী

Malda | মালদার ‘গালিচায়’ শুধুই শূন্যতা, বাজেটে উপেক্ষিত লক্ষাধিক কার্পেটশিল্পী

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা: রাজ্য বাজেটে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি এলাকায় কার্পেট হাব গড়ে তোলার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। এই ঘোষণায় মন ভেঙেছে মালদার (Malda) কার্পেটশিল্পীদের। তাঁদের দাবি, রাজ্যের সিংহভাগ কার্পেটশিল্পীর বাস মালদা জেলায়। অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এই জেলার কার্পেটশিল্পের উন্নতির জন্য সরকারের তরফে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পেটের টানে জেলার কার্পেটশিল্পীদের ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হয়। পালাবদলের পর নতুন রাজ্য সরকার জেলার কার্পেটশিল্পের উন্নতির জন্য কিছু পদক্ষেপ করবে বলে আশা করেছিলেন শিল্পীরা। কিন্তু সোমবারের বাজেট তাঁদের হতাশ করেছে বলে জানিয়েছেন কার্পেটশিল্পীরা।

মঙ্গলবার ইংরেজবাজারের সাট্টারি এলাকার কার্পেট বুননের কমন ফেসিলিটি সেন্টারে বসেছিলেন কার্পেটশিল্পী মাসরুল মোমিন। তিনি বলেন, ‘মালদা জেলায় কার্পেট হাব হওয়া উচিত ছিল। জেলার প্রায় ৪ লক্ষ শিল্পী কার্পেট বোনার সঙ্গে যুক্ত। বাংলার কোনও জেলায় এত কার্পেটশিল্পী নেই। অথচ আমাদের পরিশ্রমের ফসল তুলে নিয়ে যায় ভিনরাজ্যের কারবারিরা। আমাদের হাতেবোনা গালিচায় ট্যাগ লাগে বেনারস, কাশ্মীর কিংবা ভাদোইয়ের কারখানার।’ তিনি যোগ করেন, ‘সরকারের উচিত বাংলার নিজস্ব কার্পেট ব্র্যান্ড তৈরির দিকে নজর দেওয়া। তাতে শুধু শিল্পীরা নয়, সরকারও লাভবান হবে।’

শিল্পীরা জানিয়েছেন, তৃণমূল আমলে কার্পেটশিল্পের উন্নয়নের জন্য অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কমন ফেসিলিটি সেন্টার ছাড়া শিল্পীদের কপালে আর কিছু জোটেনি। ২০১৯ সালে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনও রামচন্দ্রপুরে মেগা কার্পেট ক্লাস্টার চালু হয়নি। কাজের খোঁজে কার্পেটশিল্পীদের ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হয়। এই অবস্থায় বাজেটে তাঁদের জন্য কিছু থাকবে বলে আশা করেছিলেন জেলার কার্পেট শিল্পীরা। শেষমেশ তাঁদের হতাশ হতে হল।

এই প্রসঙ্গে ইংরেজবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, ‘খুব তাড়াতাড়ি মালদা জেলার কার্পেটশিল্পীদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। কার্পেটশিল্পের বিকাশ ঘটাতে আমি বিধায়ক হিসেবে সবসময় শিল্পীদের পাশে থাকব।’

এই জেলার কার্পেটশিল্পীরা মূলত ইংরেজবাজারের সাট্টারি, কাজিগ্রাম, অমৃতি, ভবানীপুর, এনায়েতপুর, ধরমপুর, শ্যামপুর ও নুরপুরের বাসিন্দা। একটা সময় এঁরা সকলেই তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁরা কার্পেট বুননের দিকে ঝোঁকেন। তাঁদের উদ্যোগে জেলায় কয়েক হাজার লুম তৈরি হয়েছে। কাশ্মীর, বেনারসের কার্পেট কারবারিরা এই জেলার শিল্পীদের কাছ থেকে কার্পেট তৈরি করাতে আসেন। কিন্তু সেই অনুযায়ী তাঁরা পারিশ্রমিক পান না বলে জানিয়েছেন শিল্পীরা।

এই প্রসঙ্গে শিল্পী আজহার মিয়াঁ বলেন, ‘কুশমণ্ডিতে হাব তৈরি হচ্ছে বলে আমরা ঈর্ষান্বিত নই। কিন্তু আমাদের কেন বঞ্চিত করা হচ্ছে? সবচেয়ে বেশি কার্পেটশিল্পী রয়েছে মালদা জেলায়। অথচ আমরা কিছুই পেলাম না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন বড়জোর ৫০০ টাকা মজুরি পাই। কিন্তু ভিনরাজ্যে গেলে প্রতিদিন ১০০০ টাকা মজুরি জোটে। জেলার ৫০ শতাংশ কার্পেটশিল্পী এখনও পরিযায়ী। তাও আমাদের বিষয়টা বিবেচনা করা হল না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *