আজাদ, মানিকচক: সাধারণ মানুষের বসবাস নিশ্চিত করতে ফের বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। শুরু হয়েছে সেই কাজ। কিন্তু মালদার (Malda) মানিকচকের (Manikchak) ভাঙনকবলিত ভূতনিতে ওই কাজ নিয়ে উঠেছে বিস্তর প্রশ্ন। ভাঙন রোধের নামে কোটি কোটি টাকা সেচ দপ্তর জলে ঢালছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের বক্তব্য, অতীতেও কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয়েছে একের পর এক বাঁধ। তবে প্রতি বছর বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকা। গত বছর অগাস্ট মাসে ফুলহরের জলের স্রোতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি দক্ষিণ চণ্ডীপুরের বাঁধ। এ বছর ফের ওই জায়গায় বাঁধ নির্মাণের জন্য সেচ দপ্তর বরাদ্দ করেছে ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বাঁধ নির্মাণের নামে অবৈধভাবে মাটি কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে। মোটা টাকার বিনিময়ে মাটি বাইরে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ। কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে তোলপাড় ভূতনি।
ভূতনি কল্যাণ কমিটি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দাবি, বাঁধ থেকে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিটার দূরে এবং কাটা বাঁধ থেকে প্রায় ৩০০–৪০০ মিটার দূরে দুটি আর্থমুভার দিয়ে ইচ্ছেমতো মাটি কাটা হচ্ছে। ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৫০টি ট্র্যাক্টর-ট্রলি। ওই মাটির কিছুটা বাঁধের কাজে ব্যবহার করা হলেও বাকিটা মোটা টাকার বিনিময়ে বাইরে পাচারও করা হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীর ধার থেকে মাটি কেটে নদীকে আরও লোকালয়ের দিকে টেনে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি, মাটি কাটার ফলে একাধিক গর্ত তৈরি হচ্ছে। বর্ষার সময় ওই গর্ত জলে ভরে গেলে সাধারণ মানুষের ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকছে। বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী অভিজিৎ মিশ্রের কটাক্ষ, ‘ভূতনিতে বন্যা মানেই কোটি কোটি টাকার লুট। এবারও তাই হচ্ছে। বাঁধের এত কাছে মাটি কেটে নেওয়া হলে আবার বন্যায় জল জমবে, বাঁধ ভাঙবে। লাভ হবে কার? সাধারণ মানুষের নয়, লাভ হবে লুটেরাদের।’ ভূতনি কল্যাণ কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আগেও যা হয়েছে, এবারও তাই হচ্ছে। কাজ যেন ঠিকভাবে হয়, টাকা যেন লুট না হয়, সেটাই আমাদের দাবি।’
অন্যদিকে, সেচ দপ্তরের মালদা ডিভিশনের এক আধিকারিকের দাবি, ‘৩০ থেকে ৩৫ মিটার দূরে মাটি কাটা হলে বাঁধের তেমন ক্ষতি হয় না। ২০ মিটার দূরে মাটি কাটার খবর আমাদের কাছে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মাটি বাইরে পাচার হলে তার দায় আমাদের নয়।’ কেউ দায় নিতে না চাওয়াতেই ভূতনিবাসী বুঝতে পারছেন না, এই বাঁধ রক্ষাকবচ হবে, নাকি ফের সাক্ষী থাকবে লুটের।
