Malda | কচুরিপানার চাদরে ঢাকছে পাগলা নদী! বিপন্ন পরিবেশ, দিশেহারা হাজারো মৎস্যজীবী পরিবার

Malda | কচুরিপানার চাদরে ঢাকছে পাগলা নদী! বিপন্ন পরিবেশ, দিশেহারা হাজারো মৎস্যজীবী পরিবার

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


এম আনওয়ারউল হক, বৈষ্ণবনগর: বাড়ছে সবুজ, আয় কমছে মৎস্যজীবীদের। একসময় যে নদী ছিল রোজগারের ভরসাস্থল, তা এখন কচুরিপানার চাদরে ঢাকা। পরিস্থিতি এমন যে মাছ ধরতে জাল ফেলার জায়গাটুকুও নেই। মালদার (Malda) গুরুত্বপূর্ণ জলাধার সবুজ স্তরে ঢাকা পড়ায় প্রশাসনকেই দুষছেন মৎস্যজীবী থেকে সমাজকর্মী। নদীতে কচুরিপানা এবং ধার ঘেঁষে প্লাস্টিক, থার্মোকল সহ বিভিন্ন কঠিন বর্জ্যের স্তূপ জমে রয়েছে। ফলে গঙ্গা নদী থেকে বেরিয়ে কালিয়াচকের তিনটি ব্লকের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত নদী যে দূষিত হয়ে পড়ছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই কারও মধ্যে।

নদী যেমন জীবন, তেমনই জীবিকা। কিন্তু পাগলা নদী যেন নিজেই মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ উত্তরবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের মালদা জেলা শাখা। সংগঠনের অভিযোগ, প্রশাসনিক উদাসীনতার জন্য নদীটির আজ এমন দশা। ফোরামের এক প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা বারবার জানিয়েছি, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। নদী যদি এভাবে ভরাট ও দূষিত হতে থাকে, তাহলে কয়েক বছর পর নদীর আর অস্তিত্ব থাকবে না।’ নদীটির ওপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার মৎস্যজীবী পরিবার গভীর সংকটের মুখে। সংগঠনের দাবি, মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমেছে। জাল ফেলতে গেলেই কচুরিপানায় আটকে যাচ্ছে। দূষণের কারণে মাছের গুণমানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আয় কমে বহু পরিবার আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে। সংগঠনের সহ সভাপতি ইউনুস আলি বলেন, ‘অবিলম্বে কচুরিপানা অপসারণে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। কঠিন বর্জ্য পরিষ্কার করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নদীর ওপর অবৈধ দখল চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ দ্রুত ব্যবস্থা না হলে গণ আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তিনি।

সমাজকর্মী হাসিনা পারভিন বানু বলেন, ‘নদী আমাদের অস্তিত্বের অংশ। আজ তা আবর্জনার স্তূপে পরিণত। প্রশাসনের উচিত জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।’ পরিবেশকর্মী মৃণাল বিশ্বাসের বক্তব্য, ‘কচুরিপানা সরালেই হবে না, দূষণের উৎস বন্ধ করতে হবে। নিয়মিত নজরদারি, বর্জ্য সরানো ও স্থানীয়দের সচেতনতা ছাড়া নদীটি বাঁচানো অসম্ভব।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার আবেদন জানানো হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের কর্তাদের বক্তব্য, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা কবে, প্রশ্ন সাধারণ মানুষের।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *