Faux Molestation Case | মুম্বইয়ে ভুয়ো শ্লীলতাহানির নাটক! ১০ কোটি টাকা তোলাবাজি করতে গিয়ে পুলিশের জালে দুই মহিলা

Faux Molestation Case | মুম্বইয়ে ভুয়ো শ্লীলতাহানির নাটক! ১০ কোটি টাকা তোলাবাজি করতে গিয়ে পুলিশের জালে দুই মহিলা

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


মুম্বই: মায়ানগরী মুম্বইয়ের বুকে যেন সিনেমার প্লট! প্রথমে লিফটের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে ঝগড়া বাঁধানো, তারপর সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যে শ্লীলতাহানির (Faux Molestation Case) অভিযোগ দায়ের করা। আর সবশেষে মামলা রফা করার নামে ১০ কোটি টাকা দাবি। এমনই এক হাই-প্রোফাইল ‘ব্ল্যাকমেইল’ ও তোলাবাজির ছক ভেস্তে দিল মুম্বই পুলিশ (Mumbai Police)। ঘটনার জেরে দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-এক্সটর্শন সেল (Anti-Extortion Cell)। ধৃতদের নাম হেমলতা আদিত্য পাটকর ওরফে হেমলতা বানে (৩৯) এবং আমরিনা ইকবাল জাভেরি ওরফে অ্যালিস (৩৩) ওরফে আমরিনা ম্যাথিউ ফার্নান্ডেজ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৪ নভেম্বর। গোরেগাঁও পশ্চিমের বাসিন্দা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অরবিন্দ গোয়েলের ছেলে রিতমের বাগদান অনুষ্ঠান ছিল আম্বোলি এলাকার একটি নামী হোটেলে। উৎসবের মেজাজে ছিল গোটা পরিবার। রাত তখন প্রায় ২:৪০। পার্টি শেষে রিতম এবং তাঁর হবু স্ত্রী যখন লিফটে নিচে নামছিলেন, তখনই চিত্রনাট্য অনুযায়ী লিফটে প্রবেশ করেন এক অপরিচিত মহিলা।

অভিযোগ, লিফটে ঢুকেই ওই মহিলা দাবি করেন যে রিতম তাঁর দিকে লেজার লাইট মেরেছেন। এই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তিনি অহেতুক বচসা শুরু করেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করে হোটেলে হুলস্থুল বাঁধিয়ে দেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয় যে, লোকলজ্জার ভয়ে রিতম ও তাঁর পরিবার বিব্রত হয়ে পড়েন। এরপরই আম্বোলি থানায় রিতমের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের করেন ওই মহিলা।

মামলা দায়ের করার পরেই ব্ল্যাকমেইলারদের আসল রূপ বেরিয়ে আসে। আইনি প্যাঁচ এবং জেলের ভয় দেখিয়ে শুরু হয় দর কষাকষি (Extortion)। মামলাটি আদালতের বাইরে মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে ওই দুই মহিলা অরবিন্দ গোয়েলের কাছে ১০ কোটি টাকা (10 Crore Rupees) দাবি করেন। গত ২০ ডিসেম্বর এক ক্যাফেতে ডেকে অরবিন্দবাবুকে স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হয়—টাকা না দিলে তাঁর ছেলেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য জেলে পচতে হবে এবং গোটা পরিবারের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হবে।

পরিবারের সম্মান বাঁচাতে এবং ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আলোচনায় বসেন ওই ব্যবসায়ী। দীর্ঘ আলোচনার পর রফা হয় ৫.৫ কোটি টাকায়। ঠিক হয়, প্রথম কিস্তিতে ১.৫ কোটি টাকা দেওয়া হবে।

ব্ল্যাকমেইলারদের এই চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে অরবিন্দ গোয়েল সোজা মুম্বই পুলিশের অ্যান্টি-এক্সটর্শন সেলের দ্বারস্থ হন। পুলিশের পরামর্শেই তিনি টাকা দেওয়ার টোপ দিয়ে অভিযুক্তদের ডাকেন। পরিকল্পনা মাফিক লোয়ার প্যারেল এলাকায় ফাঁদ পাতে পুলিশ। ব্যবসায়ী ১.৫ কোটি টাকার একটি বান্ডিল (যার মধ্যে আসল নোটের সঙ্গে নকল নোটও মেশানো ছিল) নিয়ে সেখানে পৌঁছন। টাকা হাতবদল হওয়ার মুহূর্তেই সাদা পোশাকে ওৎ পেতে থাকা পুলিশ দুই মহিলাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত তৃতীয় এক ব্যক্তি, যার নাম ‘উৎকর্ষ’, সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ তার খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চলছে, এর আগেও তারা এই একই কায়দয় অন্য কাউকে ব্ল্যাকমেইল করেছে কি না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *