ফালাকাটা: নিখোঁজ হওয়ার ৪ দিনের মাথায় উদ্ধার হল কলেজ পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ। শুক্রবার রাতে তাঁর দেহটি উদ্ধার হয় মালবাজারের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়ি থেকে। একই ঘর থেকে উদ্ধার হয় আরও এক তরুণের ঝুলন্ত দেহ। মৃতদের মধ্যে একজনের নাম সঞ্জীব বর্মন(২০), অপর তরুণের নাম অনুপ রায় (২১)। দুই তরুণের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশায় পুলিশ।
জানা গিয়েছ, শুক্রবার রাতে ফালাকাটার ৬ মাইল গ্রামের কলেজ পড়ুয়া সঞ্জীব বর্মনের দেহ উদ্ধার হয়েছে মালবাজারের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। গত ১৫ ডিসেম্বর কলেজে যাওয়ার নাম করে নিখোঁজ হন সঞ্জীব। নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে ফালাকাটা থানায় মিসিং ডায়রি দায়ের করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিখোঁজ সঞ্জীবের শেষবারের মতো ফোনের লোকেশন পাওয়া যায় মালবাজারে। পরিবারের লোকজন মালবাজারে গিয়ে খোঁজখবরও নেন। ফালাকাটা থানার পুলিশ বিষয়টি মালবাজার থানাকেও জানায়। তবু হদিস মেলেনি ওই পড়ুয়ার। সঞ্জীবের শেষবারের ফোন লোকেশন মালবাজারে ধরা পড়ে। এরপর পরিবারের লোকজনও সেখানে খোঁজখবর নেন। শুক্রবার রাতে মালবাজারের বস্তি এলাকার একটি বাড়ি থেকে পুলিশ সঞ্জীবের দেহ উদ্ধার করে। একই ঘরে মেটেলি এলাকার অনুপ রায় নামের আরও এক তরুণের দেহও উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উভয়েরই দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এঁরা দুজনে দু’দিন আগে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন। অনুপ মেটেলি থানার ধুপঝোড়ার বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া দুই তরুণের বয়স প্রায় সমান। সঞ্জীবের বয়স ২০, আর অনুপের বয়স ২১। প্রাথমিকভাবে পুলিশ অনুমান করছে, তারা হয়তো ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তবে কেন তারা মালবাজারে গিয়ে বাড়ি ভাড়া নেন এবং কেন একইভাবে তাঁদের মৃত্যু হল, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় পুলিশ।
মৃত সঞ্জীবের বাবা শিবু বর্মন পেশায় ক্ষুদ্র মাছ বিক্রেতা, মা গীতা বর্মন গৃহবধূ। একমাত্র ছেলে সঞ্জীব জটেশ্বর লীলাবতী কলেজের পঞ্চম সিমেস্টারের ছাত্র। একমাত্র সন্তানের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার।
ফালাকাটা থানার পুলিশ জানায়, দেহ ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, পুলিশ এই রহস্য উদঘাটনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিক।
