অভিষেক ঘোষ, মালবাজার: মালবাজার শহরের (Malbazar) দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঝকঝকে প্রেক্ষাগৃহের দরজা আজও সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য খুলল না। ভোটের দামামা বেজে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। সাড়ে সাত কোটিরও বেশি টাকা খরচ করে আধুনিক অডিটোরিয়াম তৈরি হলেও স্রেফ উদ্বোধনের অভাবে তা এখন কার্যত ‘সাদা হাতি’ হয়ে পড়ে রয়েছে। শহরের এই বড় প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করতে না পারায় মাল পুরসভার ভূমিকা নিয়ে নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নাগরিকরা।
২০১৮ সালে তৎকালীন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ মাল শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকবাংলো ময়দানে এই আধুনিক প্রেক্ষাগৃহের অনুমোদন দিয়েছিলেন। ৭ কোটি ৯৬ লক্ষ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল এই প্রকল্পে। তারপর কোভিডের কারণে দীর্ঘ আড়াই বছর কাজ বন্ধ ছিল। শেষপর্যন্ত কাজ শেষ হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ এখনও মেলেনি। অথচ ৭৩৬ আসনের এই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত অডিটোরিয়ামের জন্য আলাদা করে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বৈদ্যুতিক কাজের জন্য। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর সমস্ত নথিপত্র পুরসভার হাতে তুলে দিলেও প্রয়োজনীয় ট্রান্সফর্মার কোথায় বসবে, তা নিয়েই এখনও টালবাহানা চলছে। এর পাশাপাশি অডিটোরিয়ামের সামনের অস্থায়ী দোকানগুলি সরানোর ব্যাপারেও ঢিলেমি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুর প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
ভোটের আগে এই প্রকল্প চালু করতে না পারায় হতাশ খোদ তৃণমূল শিবিরেরই একাংশ। তাঁদের দাবি, নির্বাচনের আগে অডিটোরিয়ামের উদ্বোধন হলে রাজনৈতিকভাবে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেত। মালবাজারের সচেতন নাগরিকরা এই প্রশাসনিক ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ। শহরের এক বাচিকশিল্পী সোজাসুজি তোপ দেগে বলেন, ‘রাজ্য সরকার টাকা দিলেও সেটা সঠিক সময়ে ব্যয় করতে ব্যর্থ মাল পুরসভা।’ এই চাপানউতোরের মধ্যে সাফাই গেয়েছেন পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান মিলন ছেত্রী। তিনি বলেন, ‘অডিটোরিয়ামে এখনও বিদ্যুতের সংযোগ পৌঁছায়নি, সেজন্যই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা যায়নি। তবে নির্বাচন মিটে গেলেই অডিটোরিয়ামের উদ্বোধন হবে।’ তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি বিজেপির টাউন মণ্ডল সভাপতি নবীন সাহা।
এদিকে, কাজ শেষ না হলেও অডিটোরিয়ামের নাম ঠিক করা হয়ে গিয়েছে। ‘নজরুল মঞ্চ’ হিসেবে এর নামকরণ চূড়ান্ত করা হলেও, ভোটের লড়াইয়ে মালবাজারের এই উন্নয়ন প্রকল্প আপাতত বিশবাঁও জলেই রয়ে গেল।
