মালবাজার: মাল পুরসভায় (Mal Municipality) অডিট করতে এল অডিটর জেনারেল অফ বেঙ্গলের (এজি বেঙ্গল) তিন সদস্যের টিম। ২১ নভেম্বরের মধ্যে এই অডিট শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ি বলেন, ‘অডিট হলে অসুবিধা নেই, আমাদের কাজ রাজ্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করা।’
২৯ অক্টোবর থেকে মাল পুরসভায় শুরু হয়েছে এই অডিট। তবে কোনও বিশেষ কারণে নয়, রুটিন অডিট। গত এক বছরে পুরসভায় কত অনুদান এসেছে, কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে ইত্যাদি যাচাই করে দেখবে অডিট দলটি। খরচের তালিকা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখবে তারা। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়মমাফিক করা হয়েছে কি না, প্রতিটি প্রকল্পের আর্থিক অনুমোদন আছে কি না ইত্যাদির দিকে অডিটে বিশেষ নজর থাকবে।
খরচের তালিকার সঙ্গে অনুমোদনের নির্দেশ, কোনওকিছু কেনার ক্ষেত্রে বিল, পেমেন্টের পদ্ধতি ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখবেন আধিকারিকরা। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বিল্ডিং প্ল্যান পাশে সঠিকভাবে সমস্ত প্রক্রিয়া পালিত হয়েছে কি না, খোঁজখবর নেওয়া হবে তারও। খতিয়ে দেখা হবে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, আম্রুত প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ সঠিকভাবে ও নির্দিষ্ট খাতে খরচ হয়েছে কি না।
যদিও বিরোধী দলগুলি এই অডিট সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করেছে। বিজেপির মাল টাউন মণ্ডলের সভাপতি নবীন সাহা বলেন, ‘এসব অডিট শুধু জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য। নবান্নের চোদ্দোতলা থেকে পাড়ার তৃণমূলের ছোট নেতা- সবাই দুর্নীতিতে জড়িত।’ সিপিএমের মাল এরিয়া কমিটির সম্পাদক রাজা দত্ত বলেন, ‘বছরে এতবার অডিট হলে কাজ হবে কখন? বরং এতে উন্নয়নমূলক কাজে বিঘ্ন ঘটে।’
এর আগে গত জুলাইয়ে ২০ দিনের স্পেশাল অডিট নিয়ে বেশ শোরগোল পড়েছিল। প্রচুর সরকারি নথির রেফারেন্স নম্বরের সঙ্গে পুরসভার পেশ করা রেকর্ডের মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি তখন। এমন নথিপত্রের সংখ্যা শতাধিক। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ক অর্ডার, অন্য বিভিন্ন নথিপত্র নেই পুরসভায়।
তার আগে ৭ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে চারদিনের স্পেশাল অডিট হয়। আইনজীবী সুমন শিকদারের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় হাইকোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছিল। সেসময়ে পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন স্বপন সাহা। সেই দুটি অডিটের ফলাফল এখনও জানা যায়নি। আইনজীবী সুমন শিকদার যাকে একপ্রকার আদালত অবমাননার সমতুল্য বলছেন।
